ফাইভার সাক্সেস টিপ্স – Fiverr success tips

0Shares

 

আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো ফাইভার সাক্সেস টিপ্স নিয়ে। যেগুলো ব্যাবহার করলে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার Fiverr success হওয়া অনেকটা সহজ হতে পারে।

 

ফাইভার সাক্সেস টিপ্স। Fiverr success tips :

ফাইভার সাক্সেস টিপ্স ( Fiverr success tips ) নিচে আলোচনা করা হল-

 

১. ইচ্ছা শক্তি, স্কিল, ধৈর্য ও পরিশ্রম :

ফাইভারে সফল হতে হলে সর্বোপরি নিজের ইচ্ছা শক্তি, স্কিল, ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আপনি সফল হতে পারবেন।

আপনাকে প্রথমে আপনার ইচ্ছা শক্তি স্থির করতে হবে যে, আমি এই কাজে সফল হব।

তারপর আপনাকে স্কিল ডেভলাপ করতে হবে আপনি যে কাজটি করতে চান।

স্কিল ডেভলাপ এর পাশাপাশি ধৈর্য ও পরিশ্রমের সাথে কাজ করতে হবে, তা হলে আপনি ফাইবার সহ আরও অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে সফল ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারবেন।

 

২. গুগল ও ইউটিউব রির্চাচ :

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হলে আপনাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।

সে সমস্যা গুলোর সমাধান একমাত্র আপনি গুগল ও ইউটিউব রির্চাচ করে করতে হবে।

তাই আপনাকে গুগল ও ইউটিউব রির্চাচ ভালভাবে জানতে হবে।

মার্কেটপ্লেসে সফল ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে হলে গুগল ও ইউটিউব রির্চাচ করে সহজেই ভাল ও সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

 

৩. কমিউনিকেশন স্কিল :

ফাইভারে সফল হতে হলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কমিউনিকেশন স্কিল ভাল থাকতে হবে।

কারণ, বায়ার কি বলে তা বুঝে কাজ করতে হবে, তাই ইংলিশ কমিউনিকেশন স্কিল ভাল থাকা জরুরি।

 

৪. ২৪/৭ একটিভ অনলাইন :

সর্বদা অনলাইনে থাকার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ২০ টি অর্ডার শেষ করার আগ পর্যন্ত অনলাইনে থাকুন।

চাইলে অটো রিফ্রেশার ইউস করতে পারেন। তবে রিফ্রেশ টাইম ৫ মিনিটের উপর দিয়ে রাখবেন।

 

৫. গিগ ইমেজ :

প্রথমেই আসি আপনার বায়ারকে আপনার কাজের প্রতি আগ্রহ আসার প্রথম ধাপে।

গিগ ইমেজ যদি ভাল না হয় তাহলে বায়ার আপনার গিগে ক্লিক করতে চাইবে না, আর ক্লিক না করলে আপনার সার্ভিসও গ্রহণ করবে না।

আপনি কতটা প্রফেশনাল তা আপনার গিগ ইমেজেই ফুটে উঠবে।

গিগ ইমেজ হতে হবে খুবই আকর্ষণীয় ও প্রফেশনাল। খুব বেশি টেক্সট, ছবি দিয়ে বাংলা মুভির পোস্টার বানিয়ে ফেলবেন না।

আপনি যেই টপিকের উপর গিগ খুলতে চাচ্ছেন, সেই টপিকের উপর প্রথম পেজ এর ২০ থেকে ৩০ টা গিগের ইমেজ থেকে পাঁচটি গিগ ইমেজ বাছাই করে সেগুলোর মত কম্বাইন করে আপনার গিগ ইমেজ তৈরি করবেন।

তবে মোটেও কোনো গিগ ইমেজ হুবুহু কপি করা যাবে না।

নিজের ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগাতে হবে। সর্বপরি, এমন গিগ ইমেজ বানাতে হবে যাতে, ৫০ টার মধ্যে বায়ারের নজর আপনারটাতেই পরে।

তাই গিগ ইমেজ তৈরিতে খুব গুরুত্ব দিতে হবে।

 

৬. গিগের টাইটেল :

গিগ ইমেজের মত গিগের টাইটেল তৈরিতে খুব গুরুত্ব দিতে হবে।

কারণ গিগের টাইটেলের উপর গিগ রেংক করে। গিগের টাইটেল এর মধ্যে আপনি কি সার্ভিস প্রদান করেন, সেটা স্পষ্ট করে বলবেন।

যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত, ইউনিক এবং কিওয়ার্ড ভিত্তিক টাইটেল দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

 

৭. গিগ ডিস্ক্রিপশন :

ডিস্ক্রিপশনে Does and Doesn’t বিষয়টা ভাল ভাবে উল্লেখ করবেন। মানে আপনি বায়ারকে কি কি সার্ভিস প্রদান করবেন আর কি কি করবেন না তা সুন্দর করে লিখবেন।

এতে পরবর্তীতে বায়ারের সাথে জামেলা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

মিথ্যা, ভুল, আপনি দিতে পারবেন না এমন কিছু প্রমিস করবেন না।

গিগ ডিস্ক্রিপশন খুবই আকর্ষণীয় ও প্রফেশনাল ভাবে তৈরি করবেন।

 

৮. গিগ টেগ :

আপনার কাজ রিলেটেড কয়েকটি  গিগ দেখে ৫টি ভাল টেগ আপনার গিগে এড করবেন। গিগ টেগের উপর গিগ রেংক করে।

 

৯. পোর্টফলিও :

আপনার কাজের সেম্পল বায়ার চাইতে পারে, তাই ভাল মানের একটি পোর্টফলিও বানাতে সময় দিন।

আর অবশ্যই পোর্টফলিও লিংক গিগ ডেস্ক্রিপনে দিয়ে দিবেন।

বিশেষ করে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন এই জাতীয় কাজের পোর্টফলিও থাকলে অর্ডার পেতে সাহায্য করে।

তবে গিগ ডেস্ক্রিপনে যে গুলো লিংক দেওয়ার অনুমতি আছে সে গুলো দিবেন।

 

১০. গিগ প্রাইসিং :

আপনার কাজের সাথে মিল রেখে অন্যান্য আপনার কাজ রিলেটেড গিগ দেখে আপনার গিগে সঠিক প্রাইস দিবেন।

 

১১. গিগ মার্কেটিং :

গিগ আপলোড করে বসে থাকলে চলবে না। দ্রুত অর্ডার পাওয়ার জন্য গিগ মার্কেটিং করতে হবে।

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার গিগ শেয়ার করতে হবে।

অবশ্যই স্পামিং করা যাবে না। স্পামিং এবং মার্কেটিং বিষয়ে ভালো করে বুঝে নিন।

 

১২. রেপিড রেসপন্স :

বায়ার মেসেজ করলে খুব দ্রুত রেসপন্স করুন। এতে বায়ার আপনাকে কাজটি দিতে আগ্রহ ফিল করবে।

বায়ার কি চায় তা ভাল ভাবে বুজে অর্ডার নিন।

 

১৩. বায়ার সন্তোষ :

বায়ারের সাথে কোনো প্রকার খারাপ ব্যবহার না করে সর্বদা বায়ারকে 100% সেটিস্ফাইড করার চেষ্টা করতে হবে।

আপনার বায়ারকে আপনি সন্তুষ্ট করতে না পারলে আপনি ফাইভারে সফল হতে পারবেন না।

একমাত্র বায়ারকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই আপনার প্রোফাইলের রেটিং বাড়বে এবং হিডেন ফিডব্যাক খুব ভাল পাবেন, এতে আপনার গিগ দ্রুত রেঙ্ক করবে।

আর কমিউনিকেশন স্কিল অবশ্যই খুব ভালো পর্যায়ের থাকতে হবে।

 

১৪. পজেটিভ রিভিউ :

খুব প্রফেশনাল মানের সার্ভিস দেন যাতে আপনার গিগে কোন নেগেটিভ ফিডব্যাক, হিডেন ব্যাড ফিডব্যাক, লেট ডেলিভারি না আসে।

নেগেটিভ জিনিস আপনার গিগে না থাকলে আপনার গিগ সহজেই রেঙ্ক করবে এবং লম্বা সময় ধরে রেঙ্ক ধরে রাখতে পারবেন।

 

১৫. রিপিট বায়ার :

রেগুলার বায়ার তৈরি করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে একজন ফ্রিল্যান্সারের রেগুলার বায়ার হচ্ছে তার বড় শক্তির হাতিয়ার।

গিগ যদি রেংক আউট হয় তারপরও আপনার রেগুলার বায়ার থাকলে কাজ নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হয় না।

পাশাপাশি এই রেগুলার বায়ারের অর্ডার করে আপনার গিগ আবার রেঙ্কে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

 

পরামর্শ : নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ফাইভার বেশি কার্যকর। কারণ নতুনরা মার্কেটপ্লেসে কাজ করার জন্য অগ্রিম কানেকশন/বায়ার রিকোয়েস্ট কেনার সামর্থ রাখে না। সেক্ষেত্রে ফ্রী অপশন অর্থাৎ ফাইভারই উত্তম।

সর্তকতা : ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হলে প্রথমে আপনাকে যেকোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে যেতে হবে। তা নাহলে Fiverr success অর্জন করতে পারবেন না।

 

উপসংহারে,

পরিশেষে বলা যায় যে, ফাইভার সাক্সেস টিপ্স ( Fiverr success tips ) সর্বোপরি নিজের ইচ্ছা শক্তি, স্কিল, ধৈর্য ,পরিশ্রম ও উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি ফাইভারে সফল হতে পারবেন।

virtual assistant এর কাজ করে ঘরে বসে আয় করার উপায় আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পড়ে নিন। তাছাড়া আমার লেখা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? কিভাবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখা যায় পোস্টটি আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে।

আমরা এই পোস্টে জানলাম, ফাইভার সাক্সেস টিপ্স সম্পর্কে। এই পোস্টের বিষয়ে আপনার কিছু জানার থাকলে বা কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

পোস্টটির মাধ্যমে উপকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই লাইক দিয়ে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। সবসময় সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে ভাল থাকবেন।

আমাদের আরও অন্যান্য পোস্টগুলো ভাল লাগলে অবশ্যই পড়তে পারেন।

এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment