আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ সম্পর্কে জেনে নিন

0Shares

 

আউটসোর্সিং এর আসল উদ্দেশ্য ব্যবসার কাজে যেখানে যেখানে সম্ভব, সেখানেই টাকা ও সময় সাশ্রয় করা। আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা দুইই রয়েছে।

 

আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা :

Outsourcing এর যেমন কিছু সুবিধা আছে তেমনি কিছু অসুবিধা ও রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

 

আউটসোর্সিং এর সুবিধা সমূহ :

Advantages of Outsourcing –

১. Outsourcing এর মাধ্যমে বায়ারগণ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দামে এমনকি কখনও কখনও স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করিয়ে নিতে পারেন। যা হয়তো নিয়মিত কর্মীদের মাধ্যমে করালে অনেক বেশি খরচ পড়তো।

২. তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কাজ করিয়ে আনা হয় বলে কাজের মান উন্নত হয়। ফ্রিল্যান্সার পরবর্তী কাজ পাওয়ার আশায় প্রতিটি কাজের নিজস্ব দক্ষতার ছাপ রাখার চেষ্টা করেন।

৩. বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে কাজ করিয়ে আনা যায় বলে প্রচলিত কর্মীর কোন প্রয়োজন পড়ে না।

৪. বায়ার গণ খন্ডকালীন রূপে কাউকে কাজের জন্য নিয়োগ দিতে পারেন।

৫. ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসেই কাজ করতে পারেন। ফলে, অনেকে পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে খন্ডকালীন চাকরি হিসেবে আউটসোর্সিং এ যুক্ত হতে পারেন।

৬. আউটসোর্সিং এর ক্ষেত্রে কর্মদাতাকে কোন অফিস নেবার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে অবকাঠামো বিভিন্ন সুবিধা যেমন, কর্মীর বসার সংস্থান, উন্নত মানের কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কোন প্রয়োজন পড়ে না। এতে খরচ বেঁচে যায়।

আরও পড়ুন-

 

৭. বায়ার গণ টাইম জোন এর সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারেন। বিশ্বের এক প্রান্তে যখন রাত অন্য প্রান্তে তখন দিন ফলে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কাজ করালে বায়ারগণ যখন ঘুমে বিভোর তখন অন্য প্রান্তে তার কাজটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে।

এতে সময়ের সদ্বব্যবহার করা যায়। বায়ারগণ হয়তো সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে।

৮. আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার গণ নিজের আর্থিক উন্নতি ঘটাতে পারেন। এর মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমাণে উপার্জন এর সুযোগ রয়েছে

৯. আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্ম সংস্থান করা সম্ভব হয়।

১০. আউটসোর্সিং কে শিল্পে পরিণত করা গেলে তা দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে বিরাটে একটা ভূমিকা পালন করত। আউটসোর্সিং এখন অনেকেই পেশায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর আউটসোর্সিং করে কয়েক মিলিয়ন ডলার ইনকাম করে।

শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী এই শিল্পকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও অনেকে এই খাতে বিনিয়োগ করছে। ফলে বহু লোক সম্পৃক্ত হচ্ছে বিভিন্ন কাজে, সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান।

 

আউটসোর্সিং এর অসুবিধা সমূহ :

Disadvantages of outsourcing –

১. আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কাজ করালে অনেক সময় কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির গোপনীয়তা তৃতীয় পক্ষের দ্বারা ভঙ্গ হতে পারে। বিশেষ করে যখন কোন প্রতিষ্ঠান এইচআর, পেরোল ও নিয়োগ সেবাকে আউটসোর্স করে দেয় তখন প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

২. অনেক সময় বায়ারগণ সঠিক আউটসোর্স কর্মী খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে যথা সময়ে তার কাজটি সম্পন্ন নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে, তিনি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। পাশাপাশি নিজস্ব পরিমন্ডলে বিরাট আর্থিক ক্ষতি ও ঘটে যেতে পারে।

৩. যদিও সার্বিক বিবেচনায় আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কাজ করানো অর্থসাশ্রয়ী তারপরও এতে কিছু হিডেন কস্ট থাকতে পারে যা পরবর্তীতে বায়ারের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে বায়ার যখন কোন বাইরের কোম্পানির সাথে আউটসোর্সিং এর চুক্তি করেন তখন চুক্তির শর্ত মোতাবেক তার বিভিন্ন ধরনের খরচ বেড়ে যেতে পারে।

৪. আউটসোর্সিং কোম্পানি গুলোকে ভাল ভাবে চলতে হলে মুনাফা সৃষ্টি করতে হয়। বায়ার কর্তৃক কাজের মূল্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকলে এবং সব সময় এই হার একই থাকলে তখন মুনাফা সৃষ্টির জন্য উক্ত কোম্পানির কাছে যে পথটি খোলা থাকে তা হল খরচ কমানো। আর এটি করতে গিয়ে কাজের মান নেমে যেতে পারে।

৫. আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আয়কৃত অর্থ নিজ দেশে উত্তোলন করতে গিয়ে ফ্রিল্যান্সার গণ অনেক সময় নানা ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন। যেমন, ফ্রিল্যান্সার গণকে বিভিন্ন পেমেন্ট মেথডের মধ্য থেকে তাদের উপযোগী মেথডটি গ্রহণ করতে হয়।

অনেক সময় নিজ দেশে ঐ সেবা চালু নাও থাকতে পারে।

ফলে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

তবে আশার কথা, পেওনিয়ার এর মতো কার্ড থাকলে বিশ্বের যেকোন এটিএম থেকেই উপার্জিত অর্থ উত্তোলন করা যায়।

 

আউটসোর্সিংয়ে কি কি কাজ করা যায় :

১. অ্যাকাউন্টিং এবং বুককিপিং

২. সেলস এবং মার্কেটিং

৩. কপিরাইটিং

৪. ডিজাইন ও ম্যানুফ্যাকচারিং

৫. অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ব্যাক অফিস অ্যাসিস্টেন্স

৬. কাস্টমার সার্ভিস

৭. ওয়েব ডেভেলাপমেন্ট

৮. ওয়েবসাইট মেইনটেইনেন্স

৯. গ্রাফিক ডিজাইন ও আরো অনেক কিছু।

 

পরামর্শ : অর্থ ও সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে আউটসোর্সিংয়ের বিকল্প আর কিছু নেই।

সর্তকতা : সৎ ও দক্ষ আউটসোর্সিং কর্মী দেখে কাজ দিতে হবে।

 

মন্তব্য :

পরিশেষে বলা যায় যে, আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

সর্বোপরি, উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো জেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি সফল ভাবে আউটসোর্সিং করতে পারবেন।

আমরা এই পোস্টে জানলাম, আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ সম্পর্কে।

এই পোস্টের বিষয়ে আপনার কিছু জানার থাকলে বা কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

পোস্টটির মাধ্যমে উপকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই লাইক দিয়ে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

সবসময় সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে ভাল থাকবেন। আমাদের আরও অন্যান্য পোস্টগুলো ভাল লাগলে অবশ্যই পড়তে পারেন।

পরবতীর্তে আমাদের ওয়েবসাইটে আসার অনুরোধ করছি। এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment