ফাইভার থেকে অধিক আয় করার অসাধারণ টিপস। Earn from fiverr

0Shares

 

ফাইভার থেকে অধিক আয় করা যায় অনলাইন সার্ভিস সেল করে।

আপনি ইতিমধ্যে ফ্রিল্যান্সিং করছেন? বা শুরু করার চিন্তা করছেন, তাহলে ফাইভারই হোক আপনার অনলাইনে সফল ক্যারিয়ার গড়ার চাবিখাটি।

 

ফাইভার থেকে অধিক আয় করার অসাধারণ টিপস (Earn from fiverr) :

ফ্রিল্যান্সিং এ ফাইভারেই হোক আপনার সফল ক্যারিয়ার।

ফাইভার বর্তমানে অত্যধিক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস।

যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কার্যক্ষমতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বায়ারদের জন্য বিভিন্ন সার্ভিসের প্যাকেজ তৈরি করে তা বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখেন।

ফাইভারে এই ধরনের এক বা একাধিক প্যাকেজ মিলে তৈরি পরিষেবা গুলো গিগ নামে পরিচিত যার মূল্য ৫ ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার এর অধিক পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ফাইভার সেলারকে ১ ডলার চার্জ করে প্রতি ৫ ডলার মূল্যের গিগ বিক্রিতে।

অর্থাৎ যে কোন পরিমান সেলের ২০% চার্জ করে ফাইভার। আর ৮০% রেভিনিউ সেলারের অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

ফাইভার মার্কেটপ্লেসে বর্তমানে বিভিন্ন সার্ভিসের উপর ৪০ লক্ষাধিক গিগ রয়েছে।

আপনার ফুলটাইম আয়ের উৎস হতে পারে ফাইভার।

আমি ফাইভার থেকে অধিক আয় করার অসাধারণ টিপস নিয়ে নিচে আলোচনা করলাম।

 

১. যে গিগ গুলো খুব কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব :

আপনি যদি ফাইভার মার্কেটপ্লেস থেকে অধিক আয় করতে চান?

তাহলে শুধুমাত্র সেই গিগ গুলো প্রদর্শন করুন যা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারবেন।

কিছু গিগের উদাহরণ এমন হতে পারে ।

যেমন –

১. I will Zoho email setup for your domain-$5

২. I will fix Linux, whm , Cpanel, email, DNS, Plesk, WordPress, PHP, VPS, AWS issue $5

৩. I will connect a domain to any website, Shopify, Wix, email in minutes $5

যদি প্রতিটি আপনি ২০-৩০ মিনিট বা তার কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারেন।

তাহলে এটা পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত যে আপনি এক ঘন্টার মধ্যে এই কাজ আরও একটি কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

সুতরাং আপনার আয় হবে ৮ ডলার। তাই আপনাকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সচেতন থাকত হবে ২ ঘন্টা সময় যেন অপচয় না হয় ৪ ডলার আয় করার জন্য।

 

২. গিগকে আকর্ষণীয় করে তুলুন :

ফাইভারে আপনার গিগকে আকর্ষণীয় করে তুলুন। ফাইবারে একই গিগ এর প্রতিদ্বন্দী অনেক।

প্রতিযোগিতার মাঝেই আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। তবে প্রয়োজন হবে যথাযথ কৌশলের।

গিগকে সাজিয়ে নিন সাবলীল, সংগতিপূর্ণ, আর কার্যকরী তথ্য দিয়ে।

আপনার গিগটিকে করতে হবে সবার চেয়ে আকর্ষণীয়। অনুসরন করতে পারেন নিচের পদ্ধতিগুলো :

 

ক. টাইটেল যত সম্ভব আকর্ষণীয় করুন :

যেহেতু, বায়ার টাইটেল এর উপর দৃষ্টি রাখেন।

তাই টাইটেল এ যথাসম্ভব গিগের কিওয়ার্ডগুলো লেখার চেষ্ট করুন।

তাহলে টাইটেল দেখেই বায়ার সহজে বুঝতে পারবে গিগটি কিসের সার্ভিস প্রদান করে।

 

খ. গিগের অফারের সাথে ইমেজ বা ভিডিও :

আপনার গিগের অফারের সাথে ইমেজ বা ভিডিও দিবেন।

আপনার গিগ সংশ্লিষ্ট একাধিক ইমেজ বা ভিডিও আপনার অফারটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

একটি কার্যকরী ইমেজ বা ভিডিও অনেক বর্ণনার চেয়েও ভাল।

সুতরাং, অফারের সাথে আপনার গিগে যে ইমেজ বা ভিডিও সংযুক্ত করবেন সেটি গুরুত্বের সাথে বাছাই করতে হবে।

আরও পড়ুন –

 

গ. গিগের বিষয়বস্তুর উপযুক্ত বর্ণনা :

আপনি যে গিগটি অফার করবেন এর সুন্দর ও সাবলীল বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করুন।

তাহলে বায়ার আপনার সার্ভিসটি কেনার জন্য বেশি প্রাধান্য দিবেন।

আপনার গিগের বর্ণনা তারাই পড়বে যারা আপনার টাইটেল এবং ইমেজ বা ভিডিও দেখে আগ্রহী হয়ে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করবে।

সুতরাং বিবরণটি এমনভাবে লিখুন যেন  বায়ার আপনার গিগ কেনার জন্য আগ্রহ হন।

 

৩. একই গিগ একাধিক স্টাইলে উপস্থাপন করুন :

তাড়াতাড়ি সম্পূর্ণ করা যায়, এরকম গিগ যদি ভাল বিক্রয় হচ্ছে দেখতে পান।

তাহলে, এ রকম আরও একাধিক গিগ একটু ভিন্ন আংঙ্গিকে তৈরী করতে পারেন।

ফলে আপনার ক্রিয়েটিভিটি  দেখে ক্লায়েন্ট ইমপ্রেস হবে।

 

উদাহরণস্বরূপ,

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, অনেক বায়ার একই রকম গিগ বিভিন্ন কি ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে, তাই কি ওয়ার্ড পরিবর্তন করে একই গিগের একাধিকবার পুনরাবৃ্ত্তি হতে পারে অধিক বিক্রয়ের অন্যতম মাধ্যম।

 

৪. পুনরায় সেলের জন্য বায়ারকে বিশেষ অফার :

মনে করেন, আপনি একটি গিগ অফার করলেন ৫ ডলারে ৫টি  টুইটার টুইট লিখে দিবেন।

যখন আপনি কাজটি সম্পন্ন করলেন। তখন বায়ারকে অফার করতে পারেন ৬টি টুইটার টুইট লিখে দিবেন ৫ ডলারে।

এই আইডিয়া অন্য গিগের ক্ষেত্রেও অবলম্বন করতে পারেন।

১০০ ওয়ার্ডের একটি অনুচ্ছেদ সেল করলেন ৫ ডলারে।

পরবর্তী অর্ডারের জন্য বায়ারকে ৫ ডলারে ১২০ ওয়ার্ডের অফার করতে পারেন।

একই ভাবে ৫টি ব্লগপোষ্ট কমেন্ট এর যায়গায় ৬টি  করতে পারেন।

ফলে বায়ার মুগ্ধ হয়ে বার বার আপনার গিগই ক্রয় করবে।

এরকম বিশেষ অফারে আপনার আয়ের পরিধি বাড়ব।

শুধু তাই নয়, সার্চ রেজাল্ট এ আপনার গিগের প্রাধান্য পাবে সবার আগে।

এই  কৌশল ব্যাবহার করে একটি সাধারণ গিগ অধিক সংখ্যক বার সেল করতে পারেন।

 

৫. দ্রুত রেসপন্স ও কাস্টম অফার :

ফাইবার গিগ এর সার্চ ফলাফলের রেংকিং করতে একটি জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করে।

এ পদ্ধতিতে বায়ারকে কে কত তাড়াতাড়ি রেসপন্স করে এর উপর ভিত্তি করে গিগের রেংক দেওয়া হয়।

তাই বায়ারকে যত দ্রুত সম্ভব রেসপন্স করার চেষ্টা করুন।

দ্রুত রেসপন্স করার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কাস্টম অফার।

বায়ারকে কাস্টম অফার করার চেষ্টা করুন। আপনি যে গিগ টি ইতিমধ্যে বিক্রয় করেছেন।

বায়ারকে এ ধরনের আরেকটি গিগের অফার করতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, কাষ্টম অফার এ গিগ এর বর্ণনা, কতটুকু টাইমের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং কাজের জন্য কত ডলার র্চাজ প্রদান করবে এসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

 

৬. আপনার গিগ সঠিক উপায়ে শেয়ার করুন :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার গিগ সঠিক উপায়ে যতটা সম্ভব শেয়ার করতে পারেন।

হয়ত আপনার ফলোয়ারদের মধ্যে কারও এ ধরনের সার্ভিস প্রয়োজন হতে পারে।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে ফাইভার সেই গিগগুলোই সার্চ রেজাল্টে প্রাধান্য দেয়।

যারা নিয়মিত সোস্যাল মিডিয়ায় গিগ শেয়ার করে।

 

৭. নেতিবাচক রিভিউ, লেট ডেলিভারি ও অর্ডার ক্যান্সেল এড়িয়ে চলুন :

যদিও  আপনার কাছে এটি একটি সাধারন ব্যাপার মনে হতে পারে।

কিন্তু, আপনাকে অবশ্যই নেতিবাচক রিভিউ, লেট ডেলিভারি ও অর্ডার ক্যান্সেল এড়িয়ে চলতে হবে।

যদি তা না হয় তাহলে ফাইভার সার্চ রেজাল্টে আপনার গিগের রেংক এবং সেল কমিয়ে দিবে।

বায়ারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে নেগেটিভ রিভিউ কমিয়ে আনতে পারেন।

কাজ সম্পন্ন করার পূর্বে বায়ারকে অবশ্যই জানান কিছু বাকি থাকলে প্রশ্ন করে নিতে পারেন।

কাজ ডেলিভারি দেওয়ার সময় অবশ্যই আপনাকে ফাইভ ষ্টার রেটিং এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অর্থাৎ যদি সম্ভব হয় তাহলে গিগে বর্ণিত অফারের চাইতে বেশি কাজ করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সুতরাং, নিয়মিত চেষ্ঠা করে যান, একদিন সফল হবেন ইনশাআল্লাহ।

 

মন্তব্য :

পরিশেষে বলা যায় যে, ফাইভার থেকে অধিক আয় করার অসাধারণ টিপস। Earn from fiverr সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

সর্বোপরি, উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি ফাইভার থেকে অধিক আয় করতে পারবেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? কিভাবে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখা যায়  আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পড়ে নিন। তাছাড়া আমার লেখা আউটসোর্সিং শেখার উপায় এবং যাবতীয় সকল তথ্য  পোস্টটি আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে।

অতএব, আমার লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে ভূলবেন না।

যদি আমি কোন বিষয় মিস করে থাকি অথবা আপনি আরও কোন বিষয় সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন।

এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment