ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে জানুন। Earn from website

0Shares

 

একটি websites বা ওয়েবসাইটই হতে পারে আপনার সারা জীবনের স্থায়ী উপার্জনের ক্ষেত্র। ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায় বিজ্ঞাপন, নিজের পন্য বিক্রি করে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে। Earn from website.

 

ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়  (Earn from website) :

ওয়েবসাইট কি- What is website  :

ওয়েবসাইট হচ্ছে কোন ওয়েব সার্ভারে রাখা ওয়েব পেইজ, ছবি, অডিও, ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সমষ্টি।

যা ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায়।

প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের একটি ইউনিক নাম থাকে।

অর্থাৎ  একটি ডোমেইনের অধীনে একাধিক ওয়েবপেইজের সমষ্টিকে ওয়েবসাইট বলে।

 

ওয়েবসাইট কেন তৈরি করে :

একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন পরিচয় বহন করে।

যে কোন কোম্পানি, স্কুল, কলেজ ইত্যাদি সকল প্রতিষ্ঠান তাদের নামে ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকে।

যাতে করে ইন্টারনেটে তাদের সম্পর্কে জানা যায়।

তাদের বিভিন্ন সার্ভিস বা সেবা সম্পর্কে মানুষ যেন সহজেই জানতে পারে।

এ জাতীয় ওয়েবসাইট গুলো হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট।

কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের বাহিরেও রয়েছে আরও প্রচুর ওয়েবসাইট।

যেগুলো হচ্ছে ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক এবং খবরের ওয়েবসাইট।

এই ধরণের ওয়েবসাইট গুলোতে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের টিপস, আইডিয়া, বিনোদন, খবর ইত্যাদি বিষয় দেওয়া হয়ে থাকে।

এ গুলোকে আপনি অপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ও বলতে পারেন।

এই ধরনের ওয়েবসাইট গুলো করা হয় সাধারণত শখের বসে বা দীর্ঘ সময় ব্যাবসা করার জন্য।

প্রথমেই বলে নেই, নতুনদের মাঝে ব্লগ বা ওয়েবসাইট নিয়ে বেশ ভাল কনফিউশন দেখা যায়।

আসলে ব্লগ হচ্ছে এক ধরনের ওয়েবসাইট যেখানে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা হয়। সেটা হতে পারে যে কোন বিষয়।

আর ওয়েবসাইট হচ্ছে এক ধরনের সাইট যেখানে সাধারণত তেমন কোন চেঞ্জ হয় না, বা যেখানে লেখালেখির ব্যাপার থাকে না।

আপনি ওয়েবসাইট বা ব্লগ যেটাই করুন না কেন সেখান থেকে অবশ্যই আয় করা সম্ভব।

এবার চলুন সামনের দিকে আগানো যাক।

 

ওয়েবসাইট বা ব্লগ কি বিষয়ে তৈরি করবেন :

আসলে প্রথম অবস্থায় সবচাইতে বড় যে সমস্যাটি হয় সেটি হচ্ছে, কোন বিষয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন?

সেটাই খুঁজে না পাওয়া। এর মূল কারন হচ্ছে তাড়াতাড়ি করা।

আমরা যখন কোন উৎসাহমূলক লেখা পড়ি বা কারও সফলতার গল্প শুনি।

তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আমিও তার মত হব।

এর জন্য যত পরিশ্রম করতে হয় করব। হ্যা, এমন ভাবাই ঠিক।

কিন্তু আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে আমরা ধৈর্য্য ধরতে পারি না।

আমাদের সব কিছু নগদ বা তাড়াতাড়ি দরকার হয়।

আর এই জন্য শেষ পর্যন্ত আমাদের তেমন কিছুই ভাল ফল হয় না।

আর তাই যেহেতু আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ একদিন বা দুইদিনের জন্য নয়।

সুতরাং এটা সারা জীবনের জন্য তাই হুট করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন না।

আপনি কোন বিষয়ে ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করবেন।

ভাবুন, দেখুন, শুনুন, বুঝুন তারপর সিদ্ধান্ত নেন আপনি কি করবেন, কেন করবেন এবং কিভাবে করবেন?

 

ওয়েবসাইট বা ব্লগের নিশ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কিছু টিপস :

ওয়েবসাইট বা ব্লগের নিশ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নিচের টিপস গুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে :

 আপনি ভাল জানেন এবং আপনার ইন্টারেস্ট আছে এমন যে কোন বিষয়েই আপনি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করতে পারেন।

আপনি যে কোন বিষয়েই জানুন না কেন সেটা নিয়েই লেখালেখি শুরু করে দিতে পারেন।

শেয়ার করুন আপনার নিজের অভিজ্ঞতা।

সেটা যে কোন বিষয় তা কোন ব্যাপার না। কোয়ালিটি থাকলে সব বিষয়েই ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।

এমন অনেকেই আছেন যারা তাদের শখের বসে অনেক কিছু নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখান থেকে প্রতি মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করছেন।

আপনি যে বিষয়টি ভাল জানেন বা পারেন সেই বিষয়টিকে ওয়েবসাইট বানানোর কাজে লাগাতে পারেন।

 

যেমন- মনে করেন,

আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার।

তাহলে আপনি চাইলে ডিজাইন সর্ম্পকিত বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখির অভ্যাস করতে পারেন।

আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন, সম্ভব না হলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে পোস্ট দিতে পারেন।

চেষ্ঠা করুন যে বিষয়টা ইন্টারেস্টিং হয় এবং মানুষ বা ভিজিটর সেটা পড়ে নতুন কিছু জানতে পারে।

এই ভাবে লিখতে থাকলে দেখবেন একসময় আপনি পার্মানেন্ট ভিজিটর পেয়ে যাবেন। যারা আপনার সাইট নিয়মিত ভিজিট করবে।

তবে এ ক্ষেত্রে, কখনো হেজিটেশনে ভুগবেন না যে কি লিখব, কেমনে লিখব, কেমন হবে, কেউ পছন্দ করবে কিনা?

আপনি সেটাই লিখবেন যে বিষয়ে আপনি জানেন।

লিখতে লিখতে এক সময় আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারবেন।

আপনি যত লিখবেন আপনার লেখা তত আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে থাকবে।

একবার ব্লগ জনপ্রিয় হয়ে উঠলে সেখানে আপনি অন্যান্য লেখকদের ও আমন্ত্রণ করতে পারেন আপনার ব্লগে লিখার জন্য।

এবং অন্যান্য ব্লগাররাও যদি আপনার ব্লগে লিখা শুরু করে দেয় তাহলেই তো কপাল।

এরপর আশা করি আপানাকে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হবে না।

এই ভাবে যদি একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগকে দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারেন।

তাহলে এখানে বিজ্ঞাপন সহ নিচের উপায় সমূহ অবলম্বন করে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে পার্মানেন্ট আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

 

ওয়েবসাইট থেকে আয়ের উপায় গুলো নিচে আলোচনা করা হল :

১. বিজ্ঞাপন থেকে আয় :

আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে যদি বেশ ভাল ট্রাফিক (ট্রাফিক হচ্ছে ভিজিটর বা মানুষ যারা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে) থাকে।

তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে অন্যান্য কোম্পানীর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করিয়ে সেখান থেকে আয় করতে পারেন।

যেমন – আমরা প্রায় সময়ই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পন্যের বিজ্ঞাপন দেখে থাকি।

এই জাতীয় বিজ্ঞাপন গুলো ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করানোর মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারেন।

আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে যে কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাবেন সেই কোম্পানী আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান মূল্য পে করবে আপনাকে।

কারন তাদের বিজ্ঞাপন আপনার ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করানোর জন্য।

তাহলে এবার আপনি বলতে পারেন, এই সকল কোম্পানির বিজ্ঞাপন কোথায় পাব?

এই ধরনের বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য অনলাইনে অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট আছে (যেমন- গুগল অ্যাডসেন্স)।

তাছাড়া আরও অনেক বিজ্ঞাপনের সাইট আছে এই সকল সাইট থেকে কিভাবে অ্যাড নিবেন? এবং কিভাবে আয় হবে সেটা নিয়ে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

এখন শুধু ওয়েবসাইট থেকে আয়ের উপায় সম্পর্কে জেনে নেই।

 

২. নিজের কোন পন্য বিক্রি করে আয় :

আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ যদি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং প্রতিদিন বেশ ভাল ট্রাফিক থাকে।

তাহলে আপনি আপনার নিজের তৈরি করা কোন পন্যের বিজ্ঞাপন ওয়েবসাইটে দিতে পারবেন।

এবং সেখান থেকে আপনি আপনার পন্য বেশ ভাল বিক্রয় করতে পারবেন।

তবে এটা শুধুমাত্র, যদি আপনার তৈরি করা কোন পন্য থাকে তাহলেই সম্ভব।

আপনার যদি বিক্রয় করার মত কোন পণ্য না থাকে তাহলে এই ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

 

. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় :

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অনেকটা সেলসম্যান এর মত আয় করার মাধ্যম।

ওয়েবসাইটে আপনাকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে দিতে হবে।

এবং প্রতিবার যখন আপনি অন্য কোম্পানির কোন পণ্য আপনার নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন।

তখন আপনাকে সেই বিক্রয়কৃত অর্থ থেকে কমিশন দেওয়া হবে।

আপনি চাইলে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে এই জাতীয় মার্কেটিং করতে পারেন।

নিজের ওয়েবসাইট বা ব্লগ করে আমাদের দেশে অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন।

কাজেই আপনিও এই জাতীয় কাজ করে ইনকাম করতে পারেন।

 

৪. ইমেইল কালেকশন :

আমরা সবাই মোটামুটি কম বেশি নেট থেকে বই, গান, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি ডাউনলোড করে থাকি।

তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে বই বা মুভি ডাউনলোড করতে গেলে আমরা দেখে থাকি আমাদের ইমেইল দিতে বলে।

আমরা ইমেইল দিলে তারপর আমাদেরকে সেটা ডাউনলোড করতে দেয়।

কিন্তু কেন এমনটা হয়, কেন ইমেইল এর ঠিকানা চায় ওই ডাউনলোড ওয়েব সাইট গুলো?

এটা হচ্ছে এই জন্য যে, আপনি গান ডাউনলোড করার সময় আপনার যে ইমেইল এড্রেসটি সেখানে দিবেন।

সেটি ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ সংরক্ষন করে রাখবে।

এই  ভাবে যতজন ওই গানটি ডাউনলোড করবে তত জনের ইমেইল অ্যাড্রেস তার কাছে থাকবে।

এই ভাবে ধরলাম, ১০০০ জনের ইমেইল অ্যাড্রেস ওই ওয়েবসাইটের মালিকের কাছে জমা হয়।

এবার তিনি ঐই ১০০০ ইমেইল অ্যাড্রেস বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটারদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

কারন, অধিকাংশ ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য অ্যাক্টিভ ইমেইল অ্যাড্রেস এর তালিকা প্রয়োজন পড়ে।

এই জন্য বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটাররা ইমেইল অ্যাড্রেস কিনে নেয় নিজেদের পন্যের মার্কেটিং করার জন্য।

আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকে এবং আপনি এইভাবে ইমেইল সংগ্রহ করতে পারেন।

তাহলে আপনিও এই ইমেইল গুলো বিক্রি করে আয় করতে পারবেন।

অর্থাৎ মূল কথা হল, ওয়েবসাইটে যদি ট্রাফিক বা ভিজিটর না থাকে তাহলে কোন লাভই নেই।

কারন, যে ওয়েবসাইটের ভিজিটর নেই সেই সাইটে কেউই টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিবে না।

আর তাই যে কোন ওয়েবসাইট আপনার আয়ের উৎস তখনই হবে যখন আপনার সাইটটি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ ট্রাফিক বা ভিজিটর আপনার সাইট ভিজিট করবে।

অর্থাৎ এই পর্যায়ে একটি ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্য্য আর পরিশ্রম।

 

মন্তব্য :

পরিশেষে বলা যায় যে, ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায় – Earn from website সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

সর্বোপরি, উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারবেন।

অতএব, আমার লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে ভূলবেন না।

যদি আমি কোন বিষয় মিস করে থাকি অথবা আপনি আরও কোন বিষয় সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন।

এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment