Fiverr কি? ফাইভার থেকে টাকা আয় করার উপায় – Newfreelancing

0Shares

 

অনলাইনে ইনকাম করার অনেক উপায় আছে। Fiverr থেকে টাকা আয় করা অনলাইন ইনকামের মধ্যে অন্যতম।

এক কথায়, অনলাইন থেকে ইনকাম করার জনপ্রিয় উপায় হল ফাইভার।

এখানে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব ফাইভার কি?

ফাইভার থেকে টাকা আয় করার উপায় সম্পর্কে।

অনলাইনে ইনকাম করার অনেক গুলো মাধ্যম আছে। যার মধ্যে ফাইভার অন্যতম।

ফাইভার হল এমন একটি প্লাটফর্ম যার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করে টাকা আয় করতে পারবেন।

এমন অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে যারা ঘরে বসে ফাইভার থেকে প্রতিমাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছে।

এখন হয়তো আপনিও ভাবছেন ফাইভার থেকে আয় করার কথা।

কিন্ত কিভাবে কি করতে হবে আপনি বুঝতে পারছেন না?

চিন্তা করবেন না কারণ এই আর্টিকেলে ফাইভার সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দিব।

তাহলে প্রথমে জেনে নেই ফাইভার কি (What is fiverr in bangla) ?

 

Fiverr কি :

What is Fiverr in Bangla?

Fiverr হল এমন একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। যেখান থেকে বিভিন্ন রকমের ফ্রিল্যান্স পরিষেবা  প্রদান করা হয়।

আবার ফাইভারকে একটি ওয়েবসাইট (website) ও বলা যায়।

যেখান থেকে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের বিভিন্ন ধরনের কাজ বা বায়ার খুঁজতে পারে।

তাছাড়া একজন বায়ার বিভিন্ন রকমের কাজ করানোর জন্য ফাইভার মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করতে পারে।

এক কথায় এখানে বিভিন্ন ধরনের কাজ বা সার্ভিস কেনা বেচা করা হয়।

এ ধরণের অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, আর্টিকেল লেখা, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও, এন্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি কাজ ক্রয় বিক্রয় করা হয়।

এছাড়া ফাইভার মার্কেটপ্লেস এর মত আরও অনেক অনলাইন মার্কেটপ্লেস রয়েছে। আর সব গুলো মার্কেটপ্লেসের কাজ প্রায় একই রকম।

যেমন :

১. আপওয়ার্ক

২. ফ্রীল্যান্সার ডট কম

৩. পিপল পার আওয়ার

৪. গুরু ডট কম

তাছাড়া আরও অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। যেখানে প্রায় ফাইভারের মত নিয়মে কাজ করা হয়ে থাকে।

 

ফাইভারে কি কি কাজ পাওয়া যায় :

ফাইভারে কি কি কাজ পাওয়া যায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন।

কারণ, এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার বায়ার আসে কাজ করানোর জন্য।

আবার হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার আসে কাজ করে দেওয়ার জন্য।

তবে, এখানে বেশি সংখ্যক যে কাজ গুলো পাওয়া যায় সেগুলো নিচে দেওয়া হল।

১. ওয়েব ডিজাইন এর কাজ

২. গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ

৩. ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ

৪. এন্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এর কাজ

৫. আর্টিকেল লেখার কাজ

৬. লোগো ডিজাইন এর কাজ

৭. ভিডিও এডিটিং এর কাজ

৮. এসইও এর কাজ

৯. ওয়েবসাইট তৈরি করার কাজ এবং

১০. ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন কাজ

এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের কাজ আপনার ঘরে বসে এই মার্কেটপ্লেসে পেয়ে যাবেন।

 

ফাইভারে কাজ করার নিয়ম :

ফাইভারে কাজ করতে হলে আপনাকে প্রথমে ফাইভার একাউন্ট খুলতে হবে।

এখন প্রশ্ন হল-ফাইভারে কাজ করার নিয়ম কি?

 

সহজ উত্তর হল-

প্রথমে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিভিন্ন রকমের কাজ করার জন্য ফাইভার একাউন্ট রেজিস্টার করতে হয়।

এরপর ফ্রিল্যান্সাররা যে সার্ভিস বা কাজ গুলো বায়ারকে করে দিতে পারবে।

সেই বিষয়ে উপর ফ্রিল্যান্সাররা ফাইভার মার্কেটপ্লেসে (Fiverr Gig) বা ফাইভার গিগ তৈরি করবে।

অনেকে জানেন না ফাইভার গিগ কি?

ফ্রিল্যান্সাররা যে কাজ গুলো বায়ারকে করে দিতে পারবে সেগুলোর বর্ণনাকে গিগ বলে।

যে সকল ফ্রিল্যান্সার ফাইভার গিগ সেল করে তাদেরকে বলে ফাইভার সেলার।

এবার বিভিন্ন কোম্পানি কাজ করানোর জন্য ফাইভারে আসেন এবং গিগ অনুসারে সার্ভিস খুঁজেন।

এরপরে, বায়ার নিজের কাজ করানোর জন্য ফ্রিল্যান্সার খুঁজার পরে নিচের তথ্য গুলো দেখেন।

যেমন :

১. ফ্রিল্যান্সারের অভিজ্ঞতা।

২. সে এর আগে কোন কাজ করেছে কি না?

৩. ফ্রিল্যান্সারের পোর্টপোলিও দেখে নেওয়া।

৪. অন্যরা তার বিয়ষে কি বলেছে সেটা দেখে নেওয়া।

৫. সবশেষে কাজটি করার জন্য কত ডলার নেওয়া হবে।

সবকিছু দেখে সার্ভিস অর্ডার করা হয়।

মনে রাখবেন, ফাইভারে কাজ করে দেওয়া জন্য আগে বায়ারকে সম্পূর্ন টাকা পরিশোধ করতে হবে। এখানে কোন কাজ করানোর জন্য সর্বনিম্ন ৫ ডলার পেমেন্ট করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সার কাজ সম্পূর্ন করে জমা দেওয়া পরে ফাইভার থেকে পেমেন্ট পেয়ে যাবেন।

এর জন্য ফাইভার আলদা ২০% ডলার নিয়ে থাকে।

 

ফাইভার থেকে টাকা আয় করার উপায় :

আপনি যদি ফাইভার থেকে টাকা আয় করতে চান।

তাহলে সেক্ষেত্রে আপনাকে ফাইভারে একটি অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে।

মনে করুন,

আপনি যে কোন একটি কাজ খুব ভাল ভাবে পারেন।

যেমন- ডিজিটাল মার্কেটিং, লোগো ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি।

তাহলে এবার আপনি ফাইভার একাউন্ট তৈরি করুন।

ফাইভার একাউন্ট খোলার পরে নিজের প্রফাইল ছবি সহ সকল ইনফরমেশন দিন।

এখন আপনাকে ফাইভার গিগ তৈরি করতে হবে। আপনার দক্ষতার আলোকে গিগ তৈরি করুন।

নতুন অবস্থায় অবশ্যই সাতটি গিগ তৈরি করুন।

গিগ কত ডলারে বিক্রয় করবেন সেটা সেট করে দিন।

যখন কোন বায়ার সেই কাজটি করাতে ফাইবারে ঢুকবে কাজ করানোর জন্য।

তখন আপনার দক্ষতা অনুযায়ী আপনার গিগটি তাদের সামনে প্রদর্শিত হবে। তখন তারা আপনাকে অর্ডার করবে।

বায়ার যখন আপনার গিগ থেকে কাজ দিবে তখন নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করে সেই বায়ারকে ডেলিভারি দিবেন।

আপনি অর্ডার অনুযায়ী কাজ করে ডেলিভারি দেওয়ার সাথে সাথে বায়ারর কাছে আপনার কাজ চলে যাবে।

যখন বায়ার আপনার কাজটি বুঝে পাবে এবং তার পর আপনাকে রিপ্লাই করবে।

তখন আপনার একাউন্টে সে কাজের পেমেন্ট জমা হয়ে যাবে।

মনে রাখবেন, প্রতিটা কাজ বায়ার অর্ডার করলে সাথে সাথে ফাইভার ডলার নিয়ে নেয়।

এজন্য আপনি কাজ শেষ করে জমা দিলে নিশ্চয়ই টাকা পেয়ে যাবেন।

এভাবে ফাইবার একাউন্ট  খুলে নিজের জানা কাজ গুলো করে Fiverr থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

অনেক ফ্রিল্যান্সাররা নিজের দক্ষতা দিয়ে ফাইভারের মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে সফল ফ্রিল্যান্সার হয়েছে।

এ ছাড়া আমার লেখা আর্টিকেল ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার গাইড লাইন পড়ে আসতে পারেন উপকার হবে।

সুতরাং, এই উপায়গুলো মেনে কাজ করার চেষ্ঠা করুন।

আশা করি আপনি ফাইভার থেকে টাকা আয় করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

 

মন্তব্য :

পরিশেষে বলা যায় যে, Fiverr কি? ফাইভার থেকে টাকা আয় করার উপায় সম্পর্কে এখানে আলোচনা করেছি।

সর্বোপরি, উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ  আপনি ফাইভার থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। অতএব, আমার লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে ভূলবেন না।

যদি আমি কোন বিষয় মিস করে থাকি অথবা আপনি আরও কোন কিছু সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন।

এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment