ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার গাইড লাইন- freelancing success guideline

0Shares

 

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার গাইড লাইন নিয়ে আলোচনা করব। যেগুলো মেনে চললে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়া অনেকটা সুন্দর হতে পারে।

freelancing success guideline সম্পর্কে কমন কিছু তথ্য নিচে আলোচনা করলাম।

 

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার গাইড লাইন :

মূলত নিজেকে স্বাধীন দেখতে কে না চায়? কমবেশি সবাই চান যে তারা একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবেন।

নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করার পাশাপাশি ফ্যামিলিকেও প্রোপার সাপোর্ট দিবেন।

সত্যি বলতে, আজ কাল কার দিনে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সবার চারপাশে অফলাইন কিংবা অনলাইন বিভিন্ন রকম কাজের অপশন প্রচুর রয়েছে।

তবে এই অপশন গুলোর মধ্যে অনলাইন ইনকাম সবার কাছে একটু বেশিই প্রেফারেবল।

কেননা অনলাইন ইনকামের ক্ষেত্রে নিজের সুযোগ  সুবিধা মত কাজ করার বেনিফিট পাওয়া যায়। যেটা অফলাইন ইনকামে নেই বললেই চলে।

অতএব, চলুন এবার মেইন টপিকে যাই। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার গাইড লাইন।

সবাই নিশ্চয়ই এত দিনে ফ্রিল্যান্সিং ওয়ার্ডটা অনেক বার শুনেছেন? এই ফ্রিল্যান্সিং কিন্তু অনলাইনে ইনকাম করারই অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম।

আমি অনলাইনে এই ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করার পর যেটা বুঝলাম।

সেটা হল বেশিরভাগ জায়গাতেই বিগিনারকে গাইডলাইন দেওয়ার নাম করে ফ্রিল্যান্সিং করে কিভাবে অল্পদিনে প্রচুর টাকা আয় করা যায় সেদিকেই অনেক বেশি ফোকাস করা হচ্ছে।

এসব গাইডলাইন দেখে বেশিরভাগ বিগিনাররা  আগে পিছে না ভেবেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করছেন  এবং পরবর্তীতে আশানুরুপ আউটপুট না পেয়ে হতাশ হয়ে যাচ্ছেন।

প্রথমত, আমি স্পেশালি বিগিনারদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার  জন্য যেসব বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন সেগুলো নিয়ে আমার নলেজ শেয়ার করবো।

আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটা পড়ার পর এই সেক্টর নিয়ে যারা ডিটেইলড গাইডলাইন চাচ্ছিলেন তাদের অনেকটা সাহায্য হবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং কী :

What is freelancing in Bangla?

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে সবার আগে এটার কনসেপ্ট সম্পর্কে  পরিস্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

তাই, চলুন শুরুতেই জেনে আসি ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে। আমি শুরুতেই বলেছি ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অনলাইনে ইনকাম করার একটা জনপ্রিয় মাধ্যম।

বর্তমানে ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে পারটিকুলারলি এ সেক্টরে কাজ করার ব্যাপক ইন্টারেস্ট দেখা যাচ্ছে।

সুতরাং, সহজ ভাষায় ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অনলাইনে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ক্লায়েন্টদেরকে বিভিন্ন রকম সার্ভিস প্রোভাইড করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা।

 

কী কী কাজের সুযোগ রয়েছে :

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর অনেক বড় একটা ক্যারিয়ার ফিল্ড যেখানে বিভিন্ন রকম কাজের সুযোগ রয়েছে।

যেমন, গ্রাফিক ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ইত্যাদি।

এ কাজ গুলো করার জন্য কিছু স্পেসিফিক দক্ষতা থাকা দরকার। যাতে করে কাজ গুলো নিখুত ভাবে করা যায়।

সুতরাং, কেউ যদি ফ্রিল্যান্সার হতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই অন্তত যে কোনো একটা কাজে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

যেমন ধরুন, কেউ যদি ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডিজাইনার হতে চান, তাহলে তাকে ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কিত যথেষ্ট নলেজ এবং স্কিল থাকতে হবে।

আবার কেউ যদি ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে কাজ করতে চান?

তাহলে, তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে এমন ভাবে জানতে হবে। যাতে করে তিনি বায়ারের সমস্ত রিকোয়ারমেন্ট ফুলফিল করতে পারেন।

 

অন্যান্য পেশার সাথে ফ্রিল্যান্সিংয়ের  ডিফারেন্স কোথায় :

যারা নিজের মত করে কাজ করতে ভালোবাসেন তাদের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়া উচিৎ।

এই ফ্রিল্যান্সিংকে স্বাধীন পেশা বলা হয়ে থাকে। এর কারণ হল, একজন ফ্রিল্যান্সার দিনে কত ঘন্টা সময়ে কতটুকু কাজ করবেন সেটা তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত করেন।

এছাড়াও অন্যান্য কাজের সাথে ফ্রিল্যান্সিংয়ের অন্যতম প্রধান একটা পার্থক্য হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে নিয়মিত ভাবে কোন স্পেসিফিক প্লেসে বসে কাজ করার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

এটা অনলাইন বিত্তিক হওয়ায় কাজ করতে চাইলে কেউ তার নিজের পছন্দমতো যে কোন জায়গায় বসে কাজ করতে পারবেন।

শুধু তাই নয়, এই ক্যারিয়ার ফিল্ডে নিজের পছন্দ মতো দামে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কেউ চাইলে একেকটা প্রোজেক্ট শেষ হওয়ার পরেই পেমেন্ট নিতে পারেন। অথবা চাইলে আওয়ারলি বা উইকলি পেমেন্ট নিতে পারেন।

সবচেয়ে বড় কথা, একজন চাইলে তার নিজের প্যাশনকে কাজে লাগিয়ে এই ফিল্ড থেকে ভাল একটা পরিমান ইনকাম করতে পারেন।

যেমন ধরুন, কারও যদি লেখা লেখিতে প্যাশন থাকে, তাহলে তিনি একজন ফ্রিল্যান্সার রাইটার হতে পারেন।

এতে করে যেমন তিনি নিজের প্যাশনকে প্রফেশন হিসাবে নিতে পারবেন, তেমনি ভাবে কিন্তু কাজ ভালো হলে ইনকামটাও মন্দ হবেনা।

অর্থাৎ এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে।

 

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা যায় :

এখন নিশ্চয়ই সবার মনে এই প্রশ্নটা জেগেছে যে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, সেটা কিভাবে করা যেতে পারে?

আর ক্লায়েন্ট খোঁজার কাজটা কিভাবে করা হয়? সবার কনফিউশান আমি এক্ষুনি পরিষ্কার করে দিচ্ছি।

ফ্রিল্যান্সিং যেহেতু মূলত অনলাইনেই করা হয়, তাই এ পেশায় আসতে চাইলে হাতের কাছে ইন্টারনেটের অ্যাকসেস থাকা জরুরি।

এছাড়াও ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ থাকতে হবে। অনেকে বলেন মোবাইলেও ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব কিন্তু আমি বলবো ল্যাপটপ কিংবা পিসিতেই কাজ করতে।

তারপর আসে ক্লায়েন্ট খোঁজার পালা কারণ তাদেরকে সার্ভিস প্রোভাইড করার মাধ্যমেই আয়  আসে।

যারা ফ্রিল্যান্সিং পেশার সাথে জড়িত, তারা মূলত বিভিন্ন অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে ক্লায়েন্ট খোঁজার কাজটা করে থাকেন।

ফ্রিল্যান্সিং সাইট হল সেসব ওয়েবসাইট যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা পেমেন্টের বিনিময়ে ক্লায়েন্টদের কাছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সার্ভিস সেল করে থাকেন।

জনপ্রিয় কয়েকটা ফ্রিল্যান্সিং সাইট হলো ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডট কম ইত্যাদি ৷

এসব সাইটে ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে শুরুতেই নিজের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করতে হয়।

 

প্রোফাইল  ভেরিফাই :

ক্ষেত্রবিশেষে এন আই ডি কার্ড, পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে প্রোফাইল  ভেরিফাই করতে বলা হয়।

এরপর ফ্রিল্যান্সাররা এসব সাইটে গিগ ক্রিয়েট করে তাদের নিজেদের দক্ষতা এবং কোন ধরণের সার্ভিস অফার করছেন সে সম্পর্কে পোস্ট করেন এবং পরবর্তীতে বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করে থাকেন।

এরপর বায়ারদের পছন্দ হলে তারা সে ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটে পেমেন্ট নিয়ে তেমন একটা ঝামেলা পোহাতে হয়না।

কাজ ডেলিভারি দেয়ার পরপরই অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট যোগ হয়ে যায়।

এ পেমেন্ট জেনারেলি ডলারে করা হয় যেটা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পর আস্তে আস্তে ক্লায়েন্টদেরকে সার্ভিস দেয়ার মাধ্যমে নিজের রেপুটেশন বাড়ে।

যা এই ফিল্ডে ক্যারিয়ার গঠন করতে অনেক সাহায্য করে। ফ্রিল্যান্সিং সাইট ছাড়াও সোশাল মিডিয়া থেকে ক্লায়েন্ট খুঁজেও ফ্রিল্যান্সিং করা যায়।

যেমন, বর্তমানে ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সিং বেজড বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপে ক্লায়েন্টরা তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করার জন্য পোস্ট করেন।

যেগুলো দেখে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের সাথে যোগাযোগ করেন।

এছাড়াও অনেক সময় ফ্রিল্যান্সাররাও তাদের নিজেদের স্কিল সম্পর্কে পোস্ট করেন যেগুলো দেখার মাধ্যমে অনেক সময় ক্লায়েন্টরা তাদেরকে হায়ার করেন।

 

কিভাবে  ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন :

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

যদি নিজের freelancing starting guidelines এ এনাফ দক্ষতা না থাকে তাহলে কখনোই এখানে ভাল পজিশনে যেতে পারবেন না।

আর দক্ষতা অর্জন করতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আপনি নিজের প্যাশনটা আগে খুঁজে বের করুন।

কেননা যদি প্যাশন না থাকে, তাহলে দেখা যায় পটেনশিয়াল থাকার পরেও অনেক বেশি যুদ্ধ করতে হয়।

অন্যদিকে, যদি এই ফিল্ডে কাজ করার ইচ্ছা থাকলে, তাহলে দেখবেন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং প্রোজেক্টও ইজিলি হ্যান্ডেল করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে বিগিনারদেরকে আমি একটা সাজেশন দিতে চাই। সেটা হলো কখনোই কাউকে একটা কাজে ভালো করতে দেখে নিজেও সেই কাজটা করা শুরু করে দেবেন  না।

আমি অনেককে দেখেছি হুজুগে পড়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে। তারা নিজেরা জানার চেষ্ঠাও করেনি, তারা এটার প্রতি আগ্রহ কিনা।

অথচ দেখেছি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছে। হয়তো কেউ ফেসবুকে দেখেছে একজন ফ্রিল্যান্সার গ্রাফিক্স ডিজাইনে কাজ করে সাকসেসফুল হয়েছে।

সেটা দেখার পর তার মনে হল সেও গ্রাফিক্স ডিজাইনার হবে। অথচ তার কিন্তু প্যাশনই নেই।

টাকা আয় করাই তার মূল লক্ষ্য তাই পরবর্তীতে দেখা যায় সে ক্লায়েন্টদের ডিমান্ড ঠিকমতো ফুলফিল করতে না পেরে হতাশ।

এমন কেইস কিন্তু একটা দুইটা নয়, বরং একটু খুঁজলে এমন কেইস ভুরি ভুরি পাবেন।

এমনটা যেন না হয়, সেজন্যে নিজের প্যাশন খুঁজে বের করে সেটার পেছনে টাইম দিন।

যদি ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি প্যাশনেট হয়ে থাকেন, অর্থাৎ এ ফিল্ডে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করার জন্য সত্যিকার অর্থে  ইন্টারেস্টেড হয়ে থাকেন, তার পরবর্তী কাজটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন নিশ নিয়ে কাজ করবেন সেটা নির্বাচন করা।

এখানে কিন্তু বিভিন্ন রকম কাজের অপোরচুনিটি আছে, তাই নিশ নির্বাচন করতে গিয়ে মাথা একটু ঘুরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

এক্ষেত্রে আমি বলবো প্রতিটা কাজ নিয়ে আগে একটু রিসার্চ করে দেখুন।

ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে কোন কাজের ডিমান্ড কত বেশি বা কম সেটা দেখুন এবং নিজের কোন কাজের প্রতি ইন্টারেস্ট কাজ করছে সেটা দেখুন।

কোন এক্সপার্টের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

 

নিশ নির্বাচন করা :

নিশ নির্বাচন করা কাজটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করার জন্য আসল কাজ।

সেটা হচ্ছে যেই নিশ নির্বাচন করেছেন সেটাতে নিজের দক্ষতা ডেভেলপ করা।

সবসময় মনে রাখবেন, যে নিশই নির্বাচন করুননা কেন, সেটায় সঠিক ভাবে নিজের দক্ষতা ডেভেলপ করা একদম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এক্ষেত্রে দক্ষতা ডেভেলপ করার জন্য যদি নিজে নিজে শিখতে চান তাহলে ইউটিউবের সাহায্য নিয়ে দেখতে পারেন।

বর্তমানে ইউটিউবে পাওয়া যায় না এমন কোনো ভিডিওর টপিক নেই। আর বিনা ইনভেস্টমেন্টে শেখার জন্য ইউটিউব বিগিনারদের জন্য বেশ ভালো চয়েস।

আর যদি দক্ষতা ডেভেলপ করার পেছনে ইনভেস্ট করতে চান। তাহলে, কোন ইন্সটিটিউট থেকে কোর্স করতে পারেন।

এসব ইন্সটিটিউটের সুবিধা হলো হাতে কলমে শেখা যায় এবং কোন সমস্যার সম্মুখিন হলে মেন্টরের কাছ থেকে সমাধান করে নেয়া যায়।

এছাড়াও এখন অনলাইনেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সরাসরি কিংবা আগের রেকড কোর্স করানো হয়।

চাইলে সেগুলো কিনে করতে পারেন। তবে যেভাবেই শিখুন না কেন, নিয়মিত প্রেকটিস কিন্তু করতেই হবে।

কথায় আছে,

প্রেকটিস মেইকস অ্যা ম্যান পারফেক্ট। এ কথাটা ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অ্যাপ্লিকেবল।

মনে রাখবেন, যত বেশি প্রেকটিস করবেন, নিজের দক্ষতা তত বাড়বে ৷

আর বারবার প্রেকটিস করলে ক্লায়েন্ট যত ক্রিটিকাল প্রোজেক্টই দিকনা কেন, সেই প্রজেক্টে কাজ করতে কোনোরকম বাড়তি সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না ৷

 

পোর্টফোলিও বানানো :

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার গাইড লাইন বা freelancing success guideline এরপরের কাজটা হচ্ছে নিজের পোর্টফোলিও বানানো যেটা ক্লায়েন্টদেরকে আকর্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় স্টেপ গুলোর একটা।

ফ্রিল্যান্সিং ফিল্ডে ক্লায়েন্ট পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ক্লায়েন্টদেরকে ইমপ্রেস করা যাতে করে তারা অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে আপনার কাছ থেকেই সার্ভিস নেয়।

আর এজন্যে প্রয়োজন স্ট্রং পোর্টফোলিও থাকা। মনে রাখবেন, ক্লায়েন্টদেরকে কখনোই মিষ্টি কথায় গলাতে পারবেন না।

একারণে ক্লায়েন্টদেরকে ইমপ্রেস করার জন্য নিজের পোর্টফোলিও বানাতে সেটার পেছনে টাইম দিতে কার্পণ্য করবেন না।

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পরবর্তী কাজটা হলো ফ্রিল্যান্সিং সাইটে প্রোফাইল তৈরি করে সেখানে নিজের সার্ভিস সেল করা।

যারা নতুন তারা কোন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করলে বেটার হবে সেটা বুঝতে পারেন না ৷

নতুনদের জন্য কোন ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো ভালো হবে সেটা নিয়ে আমার লেখা একটা ডিটেলড আর্টিকেল আছে। সেই আর্টিকেলটা পড়ে দেখতে ভুলবেননা।

 

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে  কত দিন সময় লাগে এবং কেমন আর্নিং হয়?

আমি জানি এতক্ষণে সবাই হিসাব নিকাশ করতে শুরু করেছেন যে ফ্রিল্যান্সিং করে একটা স্টেবল ক্যারিয়ার বানাতে এবং হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্টের আর্নিং জেনারেট করতে কতদিন লাগতে পারে।

একচুয়ালি এটা একেক জনের স্কিল, হার্ডওয়ার্ক, প্যাশন এবং অবশ্যই ভাগ্যেরে উপর নির্ভর করে।

যদি আপনি যথেষ্ঠ পরিশ্রমি হয়ে থাকেন, ক্লায়েন্টদেরকে প্রোপারলি হ্যান্ডেল করেন, তাদেরকে সঠিকভাবে সার্ভিস দেন, তাহলে দেখতে পাবেন ধীরে ধীরে সেল বাড়বে।

অনেক সময় দেখা যায়, ক্লায়েন্টরা কাজে স্যাটিসফাইড হয়ে ফ্রিল্যান্সারদেরকে লং টার্ম প্রোজেক্টের জন্য হায়ার করে নেন।

ধরে রাখতে পারেন, যদি সবকিছু সঠিক ভাবে করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ কয়েক মাসের মধ্যেই একটা ভালো আউটপুট দেখতে পাবেন ৷

এটুকুই ছিলো বিগিনারদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা সংক্রান্ত আলোচনা।

আমি সবশেষে যেটা বলবো সেটা হলো ফ্রিল্যান্সিং সাইটে টাইম দেয়ার পাশাপাশি নিজের একটা ফ্রিল্যান্সিং বিজনেস দাঁড় করানোর মানসিকতা সবারই থাকা উচিৎ।

এতে করে শুধুমাত্র সাইটের ওপর ডিপেন্ডেন্স না থেকে একটা ব্যাকআপ সব সময় থাকবে।

পাশাপাশি মনে রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সাকসেসফুল হওয়ার কোনো  শর্টকাট পথ নেই

তাই যদি সাকসেস পেতে চান, তাহলে নিজের দক্ষতা দিয়ে লেগে থাকুন ৷

পরামর্শ : প্রথমত freelancing starting guidelines গুলো অনুসরন করে Freelancing marketplace এ রেজিস্ট্রেশন করুন।

তারপর বিভিন্ন ক্যাটাগরির ধাপ গুলো সঠিক ভাবে পূরণ করে সুন্দর একটি প্রোফাইল তৈরি করে কাজ শুরু করুন।

সর্তকতা : Freelancing marketplace এ কাজ করতে হলে প্রথমে আপনাকে যেকোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে যেতে হবে। তা নাহলে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না।

 

মন্তব্য :

পরিশেষে বলা যায় যে, ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার গাইড লাইন- freelancing success guideline সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

সর্বোপরি, উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি সফল ভাবে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

আমার লেখা freelancing success guideline সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে ভূলবেন না।

যদি আমি কোন বিষয় মিস করে থাকি অথবা আপনি আরও কোন বিষয় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন।

পোস্টটির মাধ্যমে উপকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই লাইক দিয়ে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

সবসময় সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে ভাল থাকবেন। আমাদের আরও অন্যান্য পোস্টগুলো ভাল লাগলে অবশ্যই পড়তে পারেন।

এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment