কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করা যায় অনলাইন থেকে – Newfreelancing

0Shares

 

ফ্রিল্যান্সিং ইন্টারনেটের মাধ্যমে করতে হয়। তাই অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস আছে। কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করবেন ঘরে বসে অনলাইন থেকে? Freelance income.

 

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করবেন – How to earn from freelancer

 

ফ্রিল্যান্সিং কি :

What is freelancing in Bangla?

স্বাধীন বা মুক্ত পেশার নাম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

অর্থাৎ, স্বাধীন বা মুক্ত ভাবে বা অন্যের চাপ ছাড়া স্বাধীন ভাবে কাজ করে ইনকাম করার নাম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

আরও সহজ ভাবে বলতে গেলে বলা যায় যে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়ার নাম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

 

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করতে হয় :

যেহেতু, ফ্রিল্যান্সিং ইন্টারনেটের মাধ্যমে করতে হয়। তাই অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেট প্লেস রয়েছে।

যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ এই সব মার্কেটপ্লেস দিয়ে করিয়ে থাকে।

আর এই কাজ গুলো ফ্রিল্যান্সাররা প্রতিষ্ঠানের শর্ত বা নিয়ম অনুযায়ী করে দিয়ে আয় করে থাকেন।

 

ফ্রিল্যান্সারের কাজ কি :

যেহেতু, ফ্রিল্যান্সিং ইন্টারনেটের মাধ্যমে করতে হয়। তাই বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজ গুলো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা থাকে।

যেমন-

১. ওয়েব ডিজাইন

২. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

৩. সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট

৪. গ্রাফিক্স ডিজাইন

৫. এসইও

৬. নেটওয়ার্কিং তথ্যব্যবস্থা (ইনফরমেশন সিস্টেম)

৭. লেখা অনুবাদ

৮. প্রশাসনিক সহায়তা

৯. ডিজাইন মাল্টিমিডিয়া

১০. গ্রাহকসেবা (Customer Service)

১১. বিক্রয় বিপণন

১২. ব্যবসা সেবা ইত্যাদি।

আর এই সকল কাজ গুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠান আপনাকে দিবে। তা করে দিতে পারলেই অনলাইনে আয় করা সম্ভব।

 

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করবেন অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে :

আপনাকে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হলে অবশ্যই কোন একটি কাজের উপর অভিজ্ঞ হতে হবে।

এমনকি ভাল কাজ জানতে হবে। কারন এই অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে শুধু আপনি একা কাজ করবেন না।

আপনার সাথে আপনার মত, আপনার চেয়ে ভাল ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করে থাকে।

ভাল কাজ জানা না থাকলে আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে পারবেন না।

ভাল কাজের দক্ষতা থাকলেই কেবল ফ্রিল্যান্সিং জগতে ভাল আয় করা সম্ভব।

এখন আপনি ভাবুন আপনি কোন ধরনের কাজে দক্ষ এবং নিজেকে খুব আত্ববিশ্বাসী মনে হয়।

উপরে অনেক গুলো কাজের নাম আমি দিয়েছি। আপনি মিলিয়ে দেখুন কোনটি আপনার কাজের সাথে যায়।

 

যে বিষয়ের উপর ফ্রিল্যান্সিং নির্ভর করে :

১. Knowledge (জানতে হবে)

২. Expertise (অভিজ্ঞতা থাকতে হবে)

৩. Scalability (কর্মক্ষমতা প্রসারণ)

৪. Patience (অধিক ধৈর্য্য)

৫. Skilled Service (দক্ষ্য পরিষেবা)

৬. Better Quality (ভাল মানের)

এই ছয়টি গুন থাকলেই কেবল আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে পারবেন।

 

ফ্রিল্যান্সিং করতে যা যা লাগবে :

১. কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
২. ইন্টারনেট কানেকশন
৩. কিছু কাজের দক্ষতা
৪. যথেষ্ট সময়।

ভেবে দেখুন আপনার কী কী আছে?  ১, ২ ও ৪ নম্বর সবার থাকে কিন্তু ৩ নম্বর টা সবার নাও থাকতে পারে।

সেজন্যই দরকার নিজেকে দক্ষ করে তোলা।

উপরের ৪ টি জিনিস নিশ্চিত হতে পারলে চলুন আরও সামনে এগিয়ে যাই।

এবার যে কোন একটি মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলুন।

অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আপনার ব্যাক্তিগত ইমেইল, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করবেন।

অ্যাকাউন্ট খোলার পর আপনার প্রোফাইলে গিয়ে একটি সিভি তৈরী করতে হবে।

সেখানে উল্লেখ করতে হবে যে আপনি কোন কোন কাজে দক্ষ এবং আপনার চাহিদা কেমন।

সেখানে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকও দিতে পারেন।

 

মনে রাখবেন,

আপনার প্রোফাইল যত সুন্দর ও আকর্ষণীয় হবে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।

তাই যতটা সম্ভব প্রোফাইলকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করবেন।

প্রোফাইল এমন ভাবে তৈরী করবেন যেন বায়ার আপনার প্রোফাইল দেখেই আপনার উপর ভরসা করতে পারে।

প্রোফাইল তৈরী করা শেষ হয়ে গেলে এবার সাইট গুলোতে একটু ঘুরে ঘুরে দেখেন।

অ্যাকাউন্ট খোলার প্রথম কয়েকদিন কাজের জন্য প্রস্তাব করবেন না।

বিশেষ করে ১ম ৫-৬ দিন সাইটের বিভিন্ন ফিচারগুলো দেখে নিতে পারেন।

সাইটের নিয়ম কানুন, সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি ভাল করে দেখে নিন।

এতে পরে কাজ করতে সুবিধা হবে।

তারপর আস্তে আস্তে  প্রস্তাব করা শুরু করুন। প্রথম অবস্থায় কাজ পেতে একটু দেরি হয়।

১৫-২০ দিন অথবা আরও বেশি সময় লাগতে পারে আপনার দক্ষতার উপর নির্ভর করবে।

তাই ধৈর্য্য সহকারে প্রস্তাব করে যেতে হবে।

যখন প্রথম ২-৩টি  কাজ ভাল ভাবে শেষ করতে পারবেন।

তখন আপনাকে আর পেছন  ফিরে তাকাতে হবে না।

তখন বায়ার আপনাকে কাজের জন্য খুঁজবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে যা জানা জরুরি :

কাজ করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মনে  রাখবেন।

আপনাদের সুবিধার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে আলোচনা করা হল।

 

১. রেটিং বা ফিডব্যাক:

কোন কাজ শেষ করার পর বায়ার কাজ রিভিউ করে কাজের দক্ষতা ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে আপনাকে একটি ১-৫ এর মধ্যে একটি ফিডব্যাক দিবে।

এই ফিডব্যাক আপনার প্রোফাইল জব হিস্ট্রিতে সবাই দেখতে পারবে।

আপনার ফিডব্যাক দেখেই অন্য বায়ার বুঝতে পারবে ওই কাজের উপর আপনার দক্ষতা কতটুকু।

তাই যতটা সম্ভব ভাল কাজ করার মন মানুষিকতা থাকতে হবে।

৪.৫-৫ রেটিং ফিডব্যাক রাখার চেষ্টা করতে হবে বা থাকতে হবে। তাহলেই পরবর্তিতে কাজের জন্য চিন্তা করতে হবে না।

 

২. রেংকিং:

মার্কেটপ্লেস গুলোতে ফ্রিলান্সারদের একটি নির্দিষ্ঠ রেংকিং থাকে।

যখন কোনও বায়ার তার কজের জন্য ওই সাইটের ফ্রীলান্সার খুঁজে তখন এই রেংকিং হিসেবেই ফ্রীলান্সারদের লিস্ট শো করে।

আপনার রেংকিং যদি খারাপ হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে সার্চ এ সবার শেষে দেখাবে।

রেন্ট এ কোডারে আপনার গড় রেটিং, সর্বমোট কত টাকার কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং কত ঘন্টা কাজ করেছেন তা দিয়ে আপনার অবস্থান নির্ধারিত হয়।

রেংকিং ও রেটিংয়ের মত কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

৩. কাজের সময়সীমা :

কাজ শেষ করার জন্য বায়ার একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়ে দেয়।

একেই বলে কাজের সময়সীমা বা ডেডলাইন। কাজ যথা সম্ভব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে চেষ্টা করবেন।

কখনো যদি মনে হয় কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবেন না।

তাহলে কাজ শুরু করার আগেই বায়ারকে জানান।

যদি সময় মত কাজ জমা দিতে না পারেন তাহলে হয়ত আপনি কোনো পেমেন্টই পাবেন না।

বায়ার আপনাকে একটা বাজে রেটিং বা ফিডব্যাক দিতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।

 

পরামর্শ : সুতরাং, নিয়মিত চেষ্ঠা করে যান, একদিন সফল হবেন ইনশাআল্লাহ Freelance income এ।

 

মন্তব্য :

পরিশেষে বলা যায় যে, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করবেন অনলাইন থেকে? – Freelance income. এ সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

সর্বোপরি, উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে অধিক আয় করতে পারবেন।

ঘরে বসে আয় করুন হাতে লিখে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পড়ে নিন। তাছাড়া আমার লেখা পেওনিয়ার একাউন্ট ভ্যারিফিকেশন পদ্ধতি  পোস্টটি আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে।

অতএব, আমার লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে ভূলবেন না। যদি আমি কোন বিষয় মিস করে থাকি অথবা আপনি আরও কোন বিষয় সম্পর্কে জানতে চান।

তাহলে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন।

এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment