Payoneer Account সম্পর্কে কমন কিছু তথ্য- Newfreelancing

0Shares

 

Payoneer Account সম্পর্কে কমন কিছু তথ্য নিয়ে আলোচনা করবো।

যেগুলো মেনে চললে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট ব্যাবহার করা ও লেনদেন করা অনেকটা সহজ আর সুন্দর হতে পারে।

পেওনিয়ার কি বা পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট কি :

পেওনিয়ার হল একটি অনলাইন ব্যাংকিং মাধ্যম যা গ্রাহকের অর্থ স্থানান্তর করতে বা বিদেশে লেনদেন করতে দেয়।

Payoneer দেশগুলোর মধ্যে অর্থ স্থানান্তর বা বিদেশ থেকে অর্থ গ্রহণ করাকে অনেক সহজ করে তোলে যদি আপনি এটি আপনার স্থানীয় ব্যাংকের সাথে করে থাকেন।

অর্থ্যাৎ, অর্থ স্থানান্তর করতে বা বিদেশে লেনদেন করার একটি মাধ্যমই হল পেওনিয়ার বা পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট।

 

Payoneer Account সম্পর্কে কমন কিছু তথ্য

 

বিভিন্ন গ্রুপে দেখলাম অনেকে Payoneer Account নিয়ে খুবই টেনশনে আছেন।

পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কমন কিছু তথ্য নিচে আলোচনা করলাম।

 

১. মাস্টার কার্ড :

Payoneer Account মানেই মাস্টার কার্ড নয়।

নতুন যারা পেওনিয়ার একাউন্ট করেন তারা দেখি মাস্টার কার্ড নেওয়ার জন্য খুব ব্যস্ত হয়ে উঠেন।

আপনার প্রধান উদ্দশ্য যদি মার্কেটপ্লেস কিংবা ক্লায়েন্ট থেকে পেমেন্ট নেওয়া।

তাহলে, পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর কোনো প্রয়োজনই নেই।

পেওনিয়ার একাউন্টে আপনার ব্যাংক একাউন্ট এড করেই টাকা নিয়ে আসতে পারবেন।

অযথা কার্ড নিয়ে বছর বছর কেন ফি দিবেন?

তাই লেনদেন এর জন্য শুধু মাত্র পেওনিয়ার একাউন্টই যথেষ্ঠ।

 

২. পেওনিয়ার কার্ড এর জন্য এপ্লাই :

মার্কেটপ্লেস কিংবা গ্লোবাল পেমেন্ট সার্ভিস ব্যবহার করে কোনো কোম্পানি থেকে পেওনিয়ার এ ১০০ ডলার আনলে তারপরে আপনি পেওনিয়ার কার্ড এর জন্য এপ্লাই করতে পারবেন, এর আগে নয়।

কার্ডের জন্য অসৎ উপায় অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকুন।

লিগেল ভাবে পেওনিয়ার কার্ড আনাই উত্তম।

 

৩. আইডি কার্ড ভ্যারিফিকেশন :

আইডি কার্ড  সাবমিট করেছেন পেওনিয়ার একাউন্ট ভ্যারিফিকেশন এর জন্য কিন্তু পেন্ডিং হয়ে আছে।

এই সমস্যা নিয়ে দেখলাম অনেকেই খুবই টেনশন করছেন ৷

আইডি কার্ড সাবমিট করার পর যদি দেখেন টাকা উইথড্র করার অপশন একটিভ আছে সেক্ষেত্রে আপনি কোন চিন্তা না করেই উইথড্র করে দিন।

আপনার ডকুমেন্টস যেহেতু সাবমিট করা আছে সেটা ভ্যারিফাই করার দায়িত্ব পেওনিয়ার এর।

আপনি যদি দ্রুত ভ্যারিফিকেশন প্রসেস সম্পূন্ন করতে চান তাহলে পেওনিয়ার এর কাস্টমার সাপোর্ট এ সরাসরি কল করে বলবেন যে আপনি ভ্যারিফিকেশন এর জন্য ডকুমেন্টস সাবমিট করেছেন।

এখন একাউন্ট ভ্যারিফাই করতে চাই।

এরপর তারাই পরবর্তী স্টেপ নিবে।

তবে কাস্টমার সাপোর্টে কথা বললে তারা আপনার কাছ থেকে কাস্টমার আইডি, ডেথ অফ বার্থ, সিকিউরিটি কোশ্চেন এর উত্তর এগুলো জানতে চাইতে পারে।

তাই এগুলো আগে থেকেই রেডি রাখবেন।

 

৪. প্লাস্টিক আইডি কার্ড ভ্যারিফিকেশন :

অনেকেরই স্মার্ট আইডি কার্ড না থাকায় তারা ভ্যারিফিকেশন প্রসেস নিয়ে চিন্তিত।

চিন্তা করার কিছু নেই, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি পুরোনো প্লাস্টিক আইডি কার্ড দিয়েও ভ্যারিফিকেশন প্রসেস কমপ্লিট করতে পারবেন।

এখন আবার আইডি কার্ডের অনলাইন কপিও পুরোনো প্লাস্টিক আইডি কার্ডের মত দেখতে।

সেটা অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিয়ে পুরোনো প্লাস্টিক আইডি কার্ডের মত করে ব্যবহার করতে পারবেন।

পুরোনো আইডি কার্ড দিয়ে কিভাবে ভ্যারিফিকেশন প্রসেস কমপ্লিট করতে হয় সেটা এই লিংকে গেলে পাবেন।

ভ্যারিফিকেশন প্রসেস কমপ্লিট করার নিয়ম

 

৫. আইডি কার্ড না থাকলে :

Payoneer Account টা যেহেতু আপনি ব্যবহার করবেন সেহেতু সেটা আপনার নিজের নামে হওয়া খুবই জরুরি।

খুব সমস্যা না থাকলে অন্যের তথ্য ব্যবহার করে একাউন্ট না করাই অনেক ভাল।

এতে ভ্যারিফিকেশন কিংবা অন্য যে কোনো সময় ঝামেলা পোহাতে হয় না।

পেওনিয়ার একাউন্ট করার জন্য আপনার যদি আইডি কার্ড না থাকে সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট করে নিন।

প্রয়োজনে পাসপোর্ট তৈরির জন্য এক মাস অপেক্ষা করে তারপর পাসপোর্ট নিয়ে পেওনিয়ার একাউন্ট তৈরি করুন।

এতে আপনি সব সময় ঝামেলা মুক্ত থাকতে পারবেন।

 

৬. এড্রেস ভ্যারিফিকেশন :

এড্রেস ভ্যারিফিকেশন নিয়ে অনেকেই দেখলাম ঝামেলায় আছেন।

এড্রেস ভ্যারিফিকেশন এর ডকুমেন্টস হিসেবে সবচেয়ে সহজ ডকুমেন্টস হচ্ছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

আপনার পেওনিয়ার একাউন্ট এর সাথে যদি ব্যাংক একাউন্ট স্টেটমেন্ট এর এড্রেস এর মিল না থাকে।

তাহলে, প্রথমে ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর এড্রেস অনুযায়ী পেওনিয়ার এ দেওয়া এড্রেস আপডেট করে নিন, এরপর ভ্যারিফিকেশন এর জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাবমিট করুন।

 

৭. নাম এবং ডেথ অফ বার্থ :

পেওনিয়ার এ দেওয়া নাম এবং ডেথ অফ বার্থ অবশ্যই আপনার আইডি কার্ডের সাথে মিল থাকতে হবে।

কারণ, এগুলো খুবই সেনসেটিভ বিষয়।

পাবলিক পরীক্ষা গুলোর রেজিষ্ট্রেশন এর সময় আমরা যেমন ব্যাক্তিগত তথ্য গুলো সঠিক হয়েছে কিনা সেটা বারবার চেক করে দেখি।

ঠিক তেমনি অনলাইনে চলতে গেলেও এই সিস্টেম ফলো করা জরুরি।

পেওনিয়ার এ দেওয়া আপনার সকল তথ্য NID/Passport/Driving Licences এর সাথে মিল রেখে ব্যবহার করুন।

অতএব, ভবিষ্যতে ঝামেলা অনেক কম হবে এতে।

 

৮. পেওনিয়ারে ব্যাংক একাউন্ট এড :

আপনি বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংক একাউন্ট এড করতে  পারবেন।

সাধারণত ১-৩ কর্ম দিবস এর মধ্যে পেওনিয়ার থেকে ব্যাংকে টাকা জমা হয়ে যায়।

ব্যাংকের স্টুডেন্ট একাউন্ট পেওনিয়ার এ এড করতে পারবেন।

এ ছাড়া চাইলে রকেট একাউন্ট ও এড করতে পারবেন।

 

৯. ডলার বেচা-কেনা :

পেওনিয়ার এ ডলার বেচা-কেনা থেকে বিরত থাকুন।

ফলস্বরূপ, এটা পেওনিয়ার বুঝতে পারলে সরাসরি একাউন্ট ব্যান করে দিবে।

এছাড়া প্রতারকদের থেকে সাবধান। অনেকে দেখি ফেসবুকে পেওনিয়ার কার্ড বিক্রি করে।

এগুলো কখনোই কিনবেন না, ঝামেলায় পড়বেন।

 

১০. এটি এম থেকে টাকা উঠানো :

পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড ব্যাবহার করে সহজেই এটি এম বুথ থেকে টাকা উঠানো যায়।

বাংলাদেশের সব এম বুথ থেকে টাকা উঠানো নিরাপদ নয়।

আমার মতে যে সব এটি এম বুথ থেকে টাকা উঠানো নিরাপদ তা নিচে দেওয়া হল-

. Standard Chartered Bank

. HSBC Bank

. BRAC Bank

. City Bank

. Dutch Bangla Bank

এ ছাড়া আরও অন্যান্য ব্যাংকের এটি এম বুথ থেকে টাকা উঠানো যায় যে গুলো মাস্টার কার্ড সাপোর্ট করে।

সর্বোপরি,

বলবো পেওনিয়ার কিংবা মার্কেটপ্লেসে এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আপনার একটা খারাপ কাজের জন্য দেশের নাম ছোট হয়।

আপনি হয়তো একজনকে ফাঁকি দিতে পারবেন।

এর ফলে, আল্টিমেটলি এটা দেশের হাজার হাজার মানুষের উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে।

অনলাইনে নিজে সেইফ থাকুন অন্যকে সেইফ থাকতে সহযোগিতা করুন।

 

পরামর্শ : সবশেষে বলব পেওনিয়ার কিংবা মার্কেটপ্লেসে এমন কোন কাজ করবেন না যাতে আপনার একটা খারাপ কাজের জন্য দেশের নাম ছোট হয়।

সর্তকতা : Payoneer Account এর জন্য অবশ্যই অরিজিনাল ডকুমেন্টস ব্যবহার করবেন।

 

উপসংহারে,

পরিশেষে বলা যায় যে, Payoneer Account সম্পর্কে কমন কিছু তথ্য সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

সর্বোপরি উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি সফল ভাবে পেওনিয়ার ব্যবহার করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করব আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পড়ে নিন। তাছাড়া আমার লেখা ফাইভার ব্যবহারের শর্তাবলী কি? পোস্টটি আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে।

আমরা এই পোস্টে জানলাম, Payoneer Account সম্পর্কে কমন কিছু তথ্য সম্পর্কে।

এই পোস্টের বিষয়ে আপনার কিছু জানার থাকলে বা কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

পোস্টটির মাধ্যমে উপকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই লাইক দিয়ে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

সবসময় সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে ভাল থাকবেন। আমাদের আরও অন্যান্য পোস্টগুলো ভাল লাগলে অবশ্যই পড়তে পারেন। পরবতীর্তে আমাদের ওয়েবসাইটে আসার অনুরোধ করছি।

এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment