এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? Affiliate Marketing করে ইনকাম করার উপায়

0Shares

 

কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করা যায়?

অন্যের পণ্য বিক্রি করে সেই লভ্যাংশ থেকে কিছুটা প্রফিট কমিশন আকারে নেয়ার উদ্দ্যেশ্যেই এফিলিয়েট মার্কেটিং।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে মূলত একটি প্রসেস যার মাধ্যমে সহজেই যে কোন পন্যকে বিশ্বের যে কারও কাছে পৌছে দেওয়া যায়।

তবে এখন আর এটি শুধুমাত্র পণ্য তৈরি এবং প্রমোশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

ডিজিটাল এই যুগে মার্কেটিং এখন নিজেদের উপস্থাপনের একটি উপযুক্ত জায়গাও বটে।

তাই আজকে আমি আলোচনা করব affiliate marketing এর পূর্ণাঙ গাইডলাইন  নিয়ে যার ফলে নতুনরা ভোগান্তি ছাড়াই  এই প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

আপনি যদি এই আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

আসলে এফিলিয়েট মার্কেটিং কি বা কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারেন বিস্তারিত গাইড লাইন প্রদান করা হয়েছে।

 

এই আর্টিকেলে কি কি থাকছে?

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি- what is affiliate marketing bangla :

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভরশীল। প্রাপ্তবয়স্ক প্রায় সকলের হাতেই একটি করে মোবাইল ফোন রয়েছে।

এই প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে সকলেই তাদের চাহিদার বস্তু খুঁজতে একটিবার হলেও অনলাইনে উকিঁ মারেই।

আর এই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই ই-কমার্সের পদযাত্রা শুরু।

সেই লক্ষ্য পূরণ এর উদ্দেশ্যেই বেড়েছে  নিজেদের পণ্য সকলের কাছে পৌছে দেওয়ার এক হার না মানা প্রতিযোগিতা।

আপনি যখন তাদের এই পণ্য কারও  কাছে বিক্রি করতে সফল হবেন তখন ঐ পণ্যের মূল্যের কিছু অংশ  শতকরা হিসেবে কমিশন আকারে দেওয়া হবে।

অনলাইন বাজারে এটাকেই বলা হয় এফিলিয়েট মার্কেটিং।

 

সহজ ভাষায় বলতে বুঝায়-

what is affiliate marketing?

মনে করুন আপনার  বন্ধুর একটি ল্যাপটপের দোকান আছে। কিন্ত সেই দোকানে খুব একটা বিক্রি হয় নাহ।

এই দেখে আপনি বন্ধুকে বললেন, আমি ১০ টা ল্যাপটপ বিক্রি করে দিতে পারব কিন্তু এর বিনিময়ে ঐ বিক্রিত মূল্যের কিছুটা অংশ আমকে দিতে হবে।

ফলে এর জন্য বন্ধুর ও বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আর আপনিও কিছু আয় করে নিলেন। কি মজার ব্যাপার তাই না?

এই ভাবেই অন্যের পণ্য বিক্রি করে সেই লভ্যাংশ থেকে কিছুটা প্রফিট কমিশন আকারে নেওয়ার উদ্দ্যেশ্যেই এফিলিয়েট মার্কেটিং।

মানে পন্য অন্যের, আপনি কেবল ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী।

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে বর্তমানে অনলাইনে আয়ের একটি অন্যতম উৎস।

বাংলাদেশের হাজার হাজার বেকার তরুন ভাই ও বোনেরা affiliate marketing এর মাধ্যমে নিজেদের কে সহজেই স্বাবলম্বী করে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

তাই আপনিও যদি অনলাইনে ইনকামের চেষ্টা করেন। তাহলে আমি পরামর্শ দিব আজই এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করে দিন।

 

কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করা যায় :

How To Make Income From Affiliate Marketing?

তবে, আপনি যদি মনে করেন এফিলিয়েট মার্কেটিং মানেই টাকার খনি তাহলে ভূল ভাবছেন।

অনলাইন হচ্ছে এমন একটা প্লাটফর্ম যেখানে প্রচুর শ্রম ও মেধার সমন্বয় ব্যতীত সফলতা পাওয়া দুষ্কর। তাই প্রথমেই হাজার ডলার ইনকামের কথা মাথা থেকে ঝাড়তে হবে।

তবে, নিরলস ভাবে লেগে থাকলে সফলতা আসতে বাধ্য ইনশা আল্লাহ।

সে জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়, যথেষ্ট জ্ঞান ও এর সঠিক প্রয়োগ। প্রচুর সময় দিতে হবে।

একদম প্রথম থেকে শুরু করলে হার মানা যাবে না।

তারপর তিন চার মাস পর আয়ের আশা করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে এস ই ও গুরুত্ববহন করবে।

আপনি যদি কম সময়ে  আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পেইজে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আয়ের  পরিমাণ অবশ্যই বাড়বে।

তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও কিছু সেল জেনারেট করে, কিভাবে আয় দ্বীগুন করবেন তাও পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

 

মনে রাখবেন,

অনলাইনে আয়ের বিষয় অনেকগুলো ফ্যাক্টর এর উপর নির্ভর করে। তাই প্রথম মাসেই কাংখিত আয় করতে না পেরে নাক ছিটকে সরে পড়লে Affiliate Marketing আপনার জন্য না।

 

এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে কী কী প্রয়োজন :

উপরের বিস্তারিত আলোচনার  পর নিশ্চয় বুঝে গিয়েছেন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন – আপনি কি পারবেন এই সেক্টরে ভাল কিছু করতে?

যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে পরবর্তী দিক নির্দেশনা গুলো অবশ্যই পড়বেন।

প্রথমেই এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চাইলে যে সকল ধাপ গুলো আপনাকে ফলো করতে হবে তা হল-

১. সঠিক প্লাটফর্ম নির্বাচন

২. নিশ/বিষয়বস্তু খুঁজে বের করা

৩. পরিকল্পনা তৈরি করা

৪. কোন এফিলিয়েট প্রোগ্রামটি লাভজনক তা জানা

৫. ভাল কন্টেন্ট তৈরি

৬. এফিলিয়েট ওয়েবসাইটটি সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া

৭. কাংক্ষিত লক্ষ্য অর্জন

 

১. সঠিক প্লাটফর্ম নির্বাচন :

সত্যি বলতে এফিলিয়েট শুরু করা বর্তমানে খুবই সহজ এবং কোন রকম ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই এই প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়া যায়।

আপনি হয়তো ভাবছেন, এখনো আপনি এই ব্যাপারে কিছু জানেনই নাহ তাহলে কীভাবে শুরু করবেন?  অথবা আপনি কোথাও প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

কিন্তু আমি তোহ আগেই বলে ফেলেছি আপনি কোন রকম ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই আপনি এফিলিয়েট করতে পারবেন।

তাহলে, এবার? আমরা সবাই বর্তমানে ইউটিউব এবং গুগলকে চিনি।

এই দুইটা এমন একটি অসাধারণ প্লাটফর্ম যেখানে আপনি সহজেই যে কোন টিউটোরিয়াল ফ্রিতেই খুঁজে পাবেন।

এছাড়া udemy.com থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং রিলেটেড ফ্রী কোর্সগুলোও ডাউনলোড করে শিখে নিতে পারেন। এদের প্রতিটা কোর্স  মানসম্মত  এবং হেল্পফুল।

 

২. নিশ নির্বাচন করা :

প্রথমেই আসুন জেনে নেই নিশ কি? বা নিশ জিনিস টা কি?

মূলত নিশ হচ্ছে একটি স্পেসিফিক বিষয়বস্তু। এই বিষয়বস্তু টিকে কেন্দ্র করেই আপনার যাবতীয় কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে।

তাই অবশ্যই আগে নিশ সিলেকশন এমনভাবে করতে হবে যা-

১. লাভজনক

২. লো কম্পিটেটিভ

৩. যে বিষয় সম্পর্কে পূর্ব ধারণা আছে

যেমন আপনার স্মার্টফোন সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা আছে।

তাহলে স্মার্টফোনই হবে আপনার নিশ। তারপর এই নিশকে কেন্দ্র করে আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

তবে আবারো বলছি এমন নিশ নির্বাচন করুন যা লো কম্পিটেটিভ।

তারপরও যদি নিশ সিলেকশনে সমস্যা হয় অথবা আপনি বুঝে উঠতে পারছেন নাহ কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত নিশ তাহলে Amazon এর সাহায্য নিতে পারেন।

এই ওয়েবসাইটে অনেক নিশ আইডিয়া রয়েছে  এবং আপনি এই সাইটের মাধ্যমে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, কীভাবে প্রোডাক্ট প্ল্যানিং করতে হয় ইত্যাদি বিভিন্ন আইডিয়া ফ্রীতেই পেয়ে যাবেন।

আবার এমন কোন প্রোডাক্ট সিলেক্ট করিয়েন না যার সম্পর্কে আপনার মোটেও  ধারনা নেই।

এতে করে এফিলিয়েট শুরু করার আগেই আপনি ইন্টারেস্ট হারিয়ে ফেলবেন।

 

৩.পরিকল্পনা তৈরি করা :

আশা করছি আপনি ইতিমধ্যে নিশ নির্বাচনে সফল হয়েছেন।

এবার আপনাকে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে কিভাবে আপনি আপনার প্রোডাক্ট সকলের কাছে পৌছে দিতে পারবেন এবং কিভাবে আপনার ব্যবসাকে একটি লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবেন।

মূলত পরিকল্পনা ব্যতীত সফলতা পাওয়া দুষ্কর। আর অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ছাড়া ঘুরপাক খেতেই থাকবেন।

অর্থাৎ, লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

 

কোন এফিলিয়েট প্রোগ্রামটি লাভজনক :

পরিকল্পনা তৈরির পরবর্তী ধাপটি হচ্ছে কোন এফিলিয়েট প্রোগ্রামটি আপনার জন্য লাভজনক তা খুঁজে বের করা।

নিম্নোক্ত তিনটি ধাপের মাধ্যমে খুব সহজেই উত্তম প্রোগ্রামটি নির্বাচন করতে পারবেন। ধাপসমূহ হল-

 

১. অধিক কমিশন কিন্তু কম চাহিদা :

এই ধরণের প্রোগ্রামগুলো খুবি লাভজনক। যদি আপনি এফিলিয়েটে নতুন হন, তাহলে স্বভাবত চেষ্টা করবেন যেন এফিলিয়েটের মাধ্যমে অধিক লাভ করা যায়।

আর এক্ষেত্রে কম চাহিদার কিন্তু বেশী কমিশনের প্রোডাক্ট নির্বাচন অধিক সহায়ক।

 

২. অল্প কমিশন কিন্ত অধিক চাহিদা :

কিছু কিছু পণ্য রয়েছে যেগুলোর চাহিদা বেশী কিন্তু দামে সস্তা।

আর যেহেতু পণ্যের মূল্য অনুযায়ী আপনাকে কমিশন প্রদান করা হবে, তাই পণ্য কতটা মূল্যবান তাও লক্ষ্যনীয়।

যেমন: কলম একটি ৫ টাকা দামের, কলমের মূল্য কম হলেও পেন্সিল এর তুলনায় কলমের চাহিদা অনেক বেশি।

তবে প্রোডাক্ট নির্বাচনে কম মূল্যের চাহিদা সম্পন্ন পণ্যগুলোকে ফেলে দেওয়া অথবা টার্গেট না করা ঠিক হবে না।

এইসব প্রোডাক্ট গুলোও তুলনামূলক ভাবে কম লাভজনক যদি আপনি আপনার প্রোডাক্টের মাধ্যমে ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন।

 

৩. অধিক কমিশন ও অধিক চাহিদা :

বুঝতেই পারছেন নিশ্চয় এই ধরণের প্রোগ্রাম গুলোতে পণ্যের চাহিদা যেমন বেশি তেমনি অনেক বেশি কমিশন ও পাওয়া যায়।

তবে কথা হচ্ছে এইরকম পণ্য আপনি কীভাবে পাবেন? এর জন্য আপনাকে জানতে হবে এসইও এবং পর্যাপ্ত রিসার্চ এর মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে।

এই যে আমি এতো কিছু বলছি সবই কিন্তু শুধুমাত্র আপনাকে ভালভাবে বুঝানোর লক্ষ্যে।

এতোক্ষণ আমি শুধু ধাপগুলো বর্ণণা করলাম কীভাবে আপনি লাভজনক হতে পারবেন।

 

কোন এফিলিয়েট প্রোগ্রামটি সেরা :

এবার আপনাকে জানাব কোন এফিলিয়েট  প্রোগ্রামটি সেরা এবং কাদের সাথে Affiliate Marketing করবেন।

বর্তমানে অনলাইন নির্ভর বিশ্বে অসংখ্য মানুষ তাদের ব্যবসা বানিজ্য ইন্টারনেট মুখি করতে ব্যস্ত।

কারণ অনলাইনে খুব সহজেই এবংতাড়াতাড়ি আপনি টার্গেটেড কাস্টমার পেতে পারেন।

কোন রকম প্রাতিষ্ঠানিক স্টোর ছাড়াই যে কোন পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

তবে একই পণ্যের অধিক যোগান দাতা থাকায় উদ্যোগতাদের বাধ্য হয়েই অধিক লাভের আশায় এফলিয়েট মার্কেটারদের দ্বারস্থ হতে হয়।

তবে চলুন এবার কিছু জনপ্রিয় এফলিয়েট সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।

 

Best Website List For Affiliate Marketing Job :

১. Amazon এফিলিয়েট মার্কেটিং :

প্রথমেই যেই প্রোগ্রামটির নাম নিতে হয় সেটি হল Amazon. প্রায় সকলেই নিশ্চয় এমাজনের নাম একবার হলেও শুনেছেন।

কারণ অনেক দিন যাবৎ বছরের পর বছর এমাজন নিজের আধিপত্য বিস্তার করেই চলছে।

এর মূল কারণ হচ্ছে এমাজনের বিগিনার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস।

প্রায় অধিকাংশ এফিলিয়েটর এমাজনের মাধ্যমে নিজেদের এফিলিয়েট মার্কেটিং এর যাত্রা শুরু করে।

এদের সংগ্রহে প্রচুর প্রোডাক্ট রয়েছে। মোট কথা এমন কোন পণ্য নেই যা এমাজনে আপনি পাবেন নাহ। তাই আপনি ও চাইলে এমাজন দিয়েই শুরু করতে পারেন।

 

২. eBay এফিলিয়েট মার্কেটিং :

eBay প্রতিষ্ঠান্টির চেয়ারম্যান হচ্ছে থমাস জে  এবং প্রধান নির্বাহী পদে রয়েছেন ডেভিন উইং।

Ebay একটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশন।

বিশ্বের প্রত্যেক দেশের এফিলিয়েটর রা ই-বে এর  সাথে মার্কেটিং করে নিজেদের আয়ের পথ সুগম করছে।

আর যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে তারা কম বেশি ই-বে এর নাম শুনেছেন।

 

৩. ShareAsale এফিলিয়েট মার্কেটিং:

ShareAsale হচ্ছে বিশ্বের টপ কমিশন দেওয়া এফিলিয়েট ওয়েবসাইট গুলোর মধ্যে একটি।

শুধু মাত্র এফিলিয়েট ছাড়া আরও বেশ কিছু উপায়ে ShareAsale থেকে ইনকাম করা সম্ভব।

এফলিয়েট মার্কেটারদের জন্য একটি সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে মেট্রিক ব্যবহার করে সহজেই লাভজনক প্রোডাক্ট খুজে বের করে নেওয়া যায়।

এবং মাত্র $৫ ডলার হলেই টাকা উইথড্র করা যায়। ShareAsale এ একাউন্ট খুলা ও সহজ। তা একবার উকি মেরে দেখে আসতেই পারেন।

 

৪. CJ এফিলিয়েট মার্কেটিং :

এমাজনের মতোই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি এফিলিয়েট সাইট CJ Affiliate.

এই জনপ্রিয় প্লাটফর্মটির সাথে যুক্ত হতে হলে প্রথমেই সাইন আপ করে নিতে হবে। অন্যান্য সাইটের মতোই আপনার সেম পদ্ধতি।

  • কান্ট্রি ডিটেইলস
  • ফোন নাম্বার
  • পাসওয়ার্ড
  • কোম্পানি নেইম
  • বর্তমান ঠিকানা
  • ওয়েবসাইটের নাম ও ডেস্ক্রিপশন
  • ক্যাটাগরি

ইত্যাদি তথ্য দিয়ে শুরু করে দিন আপনার মার্কেটিং। তবে CJ Affiliate  বিগিনার ফ্রেন্ডলি নাহ। তাই নতুনদের জন্য একটু সমস্যা হতে এফিলিয়েট মার্কেটিং।

 

৫. click bank এফিলিয়েট মার্কেটিং :

Clickbank এর এভারেজ কমিশন রেট প্রায় ৭৫% পর্যন্ত হয়ে থাকে যা নি:সন্দেহে অনেক বেশি।

সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে কোন রকম ওয়েবসাইট ছাড়াই Clickbank এর মাধ্যমে এফিলিয়েট শুরু করা যায়।

শুধুমাত্র পার্সোনাল ডিটেইলস, ব্যাংক এবং একাউন্ট ইনফরমেশন দিয়ে সহজেই একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

তাই যারা ওয়েবসাইট নিয়ে চিন্তিত আছেন তাদেরকে আমি Clickbank ব্যবহার করার পরামর্শ দিব। এছাড়া আরও কিছু এফিলিয়েট সাইট রয়েছে।

তবে উল্লেখিত গুলোর মধ্যে যে কোন একটি দিয়েই আপনার মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করা উচিত।

 

মনে রাখবেন,

অভিজ্ঞতা আপনাকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তাই প্রথমেই সব থেকে বেস্ট নাহ খুঁজে যে কোন একটির মাধ্যমে শুরু করুন তারপর ধীরেধীরে অন্য সাইটে মুভ করতে পারবেন।

 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ভাল কন্টেন্ট তৈরি করা :

যদি আপনি এফিলিয়েটে সাক্সেসফুল হতে চান তাহলে ভাল এবং কোয়ালিটি কন্টেন্ট এর কোন বিকল্প নেই।

অনেক গুলো আজে বাজে কন্টেন্ট এর তুলনায় মাত্র কয়েকটি কোয়ালিটি কন্টেন্ট এর মাধ্যমে অধিক সেল পাওয়া সম্ভব।

মার্কেটিং এর ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘Quality content is the king ‘.মূলত কন্টেন্ট এর মাধ্যমে আপনার সাইটের ভিজিটররা পন্য কিনতে আরও বেশি আকৃষ্ট হবে।

তাই কন্টেন্টের উপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে এবং ভিজিটরেরা যাতে সহজেই বোঝতে পারে আপনি কি বোঝাইতেছেন।

 

কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত :

আমাদের মাঝে অনেকেই রয়েছে যারা কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে খুব একটা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

মুখে যা আসে তাই লেখালেখি করে। আসলে কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয়বস্তু মাথায় রেখে একটি ওয়েবসাইটের কনটেন্ট রাইটিং করতে হয়।

কিভাবে একটি সুন্দর এবং আকর্ষণীয় কনটেন্ট রাইটিং করতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য।  তার কিছু কৌশল বা পয়েন্ট নিচে তুলে ধরা হল সংক্ষিপ্ত আকারে।

সেগুলো অনুসরন করলে অবশ্যই আপনার কিছুটা কনটেন্ট রাইটিং এর প্রতি দক্ষতা কাজ করবে।

১. মোটেও কারও কন্টেন্ট থেকে কপি করা যাবে না।

২. চেষ্টা করুন পন্যের সকল তথ্য উপস্থাপন করতে।

৩. ভূল তথ্য দিয়ে ইউজারকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

৪. সঠিকভাবে কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

৫. অবশ্যই আকর্ষণীয় ইমেজ ব্যবহার করবেন, যেন গ্রাহক সহজেই আকৃষ্ট হয়।

৬. কন্টেন্ট এ প্রোডাক্ট রিভিউ গুলো হাইলাইট  করতে ভূলবেন না।

৭. শুধুমাত্র প্রোডাক্ট বিক্রিই যেন উদ্দেশ্য নাহ হয়, কিছু ইনফরমেশন তুলে ধরুন।

 

কীভাবে সেল বাড়াবেন :

শুধুমাত্র কন্টেন্ট তৈরী হয়ে গেলেই প্রোডাক্ট বিক্রির আশা করা বোকামি।

এর জন্য প্রয়োজন আপনার এফিলিয়েট লিংক গুলো সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে প্লেসমেন্ট করা।

যেমন ধরুন, আপনার এফিলিয়েট লিংক গুলো কন্টেন্ট এর একেবারে শেষে স্থাপন করা।

তাহলে ভাবুন কীভাবে লিংক এ কেউ ক্লিক করবে? লিংক এ তো ক্লিক পড়বেই নাহ বরং কেউ লিংক আছে যে সেইটা খেয়াল ও করবে নাহ।

তাই লিংক স্থাপন এর ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভাবনা চিন্তা করে নিতে হবে।

নিজেকেই খুজে বের করে নিতে হবে কোথায় লিংক থাকায় বেশি ক্লিক পড়ল।

এইভাবে প্লেসমেন্ট পরিবর্তন করে তফাৎ টাহ খুঁজে বের করতে হবে।

 

এফিলিয়েট সাইট সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপায় :

সর্বশেষে আপনাকে আপনার এফিলিয়েট সাইট টিকে সকলের কাছে তুলে ধরতে হবে।

সেইজন্য মার্কেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কার্যকরী মার্কেটিং পদ্ধতি গুলোর মাধ্যমে খুব সহজে আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাইট অনেক জনের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া সহ অন্যান্য যে সকল ওয়েবসাইট রয়েছে সেগুলো মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রমোশন চালাতে পারবেন।

 

১. পিপিসি এর মাধ্যমে :

পিপিসি এর ফুল ফর্ম হচ্ছে পে পার ক্লিক মানে এডের মাধ্যমে মার্কেটিং করলে কতটা বা কতজন ঐ এডে ক্লিক করে তার উপর নির্ভর করে সফলতা।

অধিকাংশ এফিলিয়েটর পিপিসি এর মাধ্যমে সেলস জেনারেট করে, Taboola হচ্ছে এই ধরণের একটি জনপ্রিয় পিপিসি প্লাটফর্ম। এর মাধ্যমে সহজেই পিপিসি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা সম্ভব।

 

২. সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে :

নিজেদের প্রোডাক্ট প্রমোশনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন না এমন মার্কেটার একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

মার্কেটিং মানেই সোশ্যাল মিডিয়ার জয়জয়কার। কিছু জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে প্রথমেই যে নামটি সকলের মাথায় আসে তা হল ফেইসবুক।

বিশ্বের সকল প্রান্তেই ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে, ফেইসবুক বিজনেস পেইজের মাধ্যমে অথবা এডভার্টাইজমেন্টের সাহায্যে সহজেই  কাস্টমার খুঁজে পাওয়া যায়।

তাছাড়া টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, পিন্টারেস্ট, ইউটিউব ইত্যাদি অসংখ্য প্লাটফর্ম রয়েছে।

এইসব নেটওয়ার্কিং সাইটে ফ্রীতেই প্রোডাক্টের মার্কেটিং শুরু করে দিন।

 

৩. এস.ই.ও এর মাধ্যমে :

এসইও হচ্ছে  সেল জেনারেট করার অন্যতম হাতিয়ার। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬৩,০০০ টা সার্চ হয় গুগলে।

প্রায় ৪.৪০ বিলিয়ন ইউজার রয়েছে গুগলের।

এইসব ইউজারের কিছুটা অংশ যদি আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারেন তাহলেও হিউজ পরিমাণ পন্য বিক্রি করা সম্ভব।

অধিকাংশ সার্চকারীই গুগলের প্রথম পেজে নিজেদের প্রশ্নের উত্তর খুজে পেতে আগ্রহী।

সুতরাং প্রথম পেইজে  আপনার ওয়েবসাইট রেংক করাতে পারলে প্রোডাক্ট বুস্ট করা কোনো ব্যাপারই নাহ।

আর এই জন্যই সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন অধিক গুরুত্ব বহন করে থাকে। বলা বাহুল্য শুধুমাত্র এসইও করেই এফিলিয়েট ফিল্ডে সফলতা বয়ে আনা সম্ভব হয়।

 

৪. ই-মেইল এর মাধ্যমে :

ই-মেইল মার্কেটিং সফলতার আরেক চাবিকাঠি।

এর মাধ্যমে আপনার টার্গেটেড কাস্টমারকে পুনরায় সাইটে নিয়ে আসা সম্ভব।

সেক্ষেত্রে গিভওয়ে, ডিস্কাউন্ট, কুপন কোড ইত্যাদি কৌশল অবলম্বন করা হয়।

আপনি চাইলে এই পদ্ধতির মাধ্যমে আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের প্রমোশন কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

 

কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং এ সফলতা অর্জন করা যায় :

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রচুর পরিমানের মার্কেটিং করতে হবে।

অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ এমনভাবে সাজাতে হবে।

যাতে করে ভিজিটররা খুব সহজে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভাল আইডিয়া পেয়ে যায় এবং প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহিত হয়।

সব সময় চেষ্টা করবেন ভিজিটররা আপনার পন্য সম্পর্কে এ ক্লিয়ার আইডিয়া জেনারেট করতে পারে।

 

Affiliate Marketing এ নতুনরা যেসব ভূল করে :

নতুন মার্কেটাররা প্রথমেই যেই ভুল টি করে তা হল বেশী প্রফিট লাভের আশায় কন্টেন্ট এর মধ্যে ইনফো দিতে আলসেমি করে অথবা দেয় না যা মোটেও ঠিক না।

এইটা ব্র্যান্ড এর উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ফলে দেখা যায় সাইটের ভিজিটর কমে যায়।

তাই এই ভূল করা যাবে না। অবশ্যই সঠিক ইনফো দিতে হবে।

তাছাড়া সাইটের স্পিড নিয়ে অধিক জ্ঞান না থাকায় ব্যাপারটা ইগ্নোর করে থাকে।

অথচ সাইটের স্পিড রেংকিং এ অনেক বেশী প্রভাব বিস্তার করে।

তাই আমি নতুনদের বলব কঠোর পরিশ্রম করে কাজ করুন। উল্লেখিত বিষয় গুলো নজরদারিতে রাখবেন।

 

কয়েকজন  সফল এফিলিয়েট মার্কেটারের নাম :

১. Pat Flynn :

২০০৮ সালে তার এফিলিয়েট এর মাধ্যমে আয় ছিল  $৮০০০ ডলার যা পরবর্তীতে বেড়ে হয় $৫০,০০০ (২০১৩ সালে)।

 

২. Finch sells :

ফিঞ্চ সব থেকে কনিষ্ঠ এফিলিয়েটর দের মধ্যে একজন যে অল্প বয়সেই সাফল্য লাভ করে।

 

৩. Missy ward :

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম সফল নারী এফিলিয়েট দের মধ্যে একজন।

শুরুটা এফিলিয়েট দিয়ে হলেও বর্তমানে অনেক অনলাইন এক্টিভিটির সাথে জড়িত।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এ নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলার একটি যুগোপযোগী উপায়।

তবে এর মাধ্যমে আয়ের আগে অনেক কিছু জানতে হবে এবং বুঝতে হবে। প্রথমেই নিজের টার্গেট সেট করে নিতে হবে।

তারপর নিশ সিলেকশন এর পর যতোটুকু সম্ভব ওয়েবসাইটিকে আকর্ষণীয় এবং মোবাইল ফ্রেন্ডলি করে তুলতে হবে।

 

পরামর্শ : ভাল কিছু পেতে হলে প্রচুর শ্রম দিতে হয়। তাই চেষ্টা করা উচিত সঠিক ভাবে এবং সঠিক জায়গায় শ্রম দেওয়া।

সতর্কতা : প্রথমে ইনকামের কথা না ভেবে কঠোর পরিশ্রম করুন।

 

মন্তব্য :

পরিশেষে বলা যায় যে, এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? Affiliate Marketing করে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

সর্বোপরি, উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো জেনে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারবেন।

আমরা এই পোস্টে জানলাম, এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? Affiliate Marketing করে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে।

আশা করি কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করা যায় এই উপায় গুলো সকলের পছন্দ হয়েছে। এই পোস্টের বিষয়ে আপনার কিছু জানার থাকলে বা কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

পোস্টটির মাধ্যমে উপকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই লাইক দিয়ে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। সবসময় সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদে ভাল থাকবেন।

আমাদের আরও অন্যান্য পোস্টগুলো ভাল লাগলে অবশ্যই পড়তে পারেন। এই ধরণের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে এবং টুইটারে ফলো করে রাখতে পারেন।

ধন্যবাদ

 

Leave a Comment